প্রধানমন্ত্রী কার্নির প্রশংসায় প্রাদেশিক প্রিমিয়াররা, বাণিজ্য আলোচনায় ঐক্যবদ্ধ ‘টিম কানাডা’ বার্তা

জুমু চৌধুরী

কানাডার ফেডারেল সরকার ও প্রাদেশিক নেতাদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা না-মেলা সহযোগিতার এক অভিনব দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে কাউন্সিল অব ফেডারেশনের তিনদিনের বৈঠকে।

কানাডার ফেডারেল সরকার ও প্রাদেশিক নেতাদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা না-মেলা সহযোগিতার এক অভিনব দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে কাউন্সিল অব ফেডারেশনের তিনদিনের বৈঠকে। বৈঠক শেষে সাসকাচুয়ানের প্রিমিয়ার স্কট মো যেভাবে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির প্রশংসা করেছেন, তা কানাডার রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকের কাছে অভাবনীয়। দীর্ঘদিনের সমালোচক মো বলেন, “আমাদের ফেডারেল সরকার যে কাজ করছে এবং যে স্বচ্ছতা প্রদর্শন করছে, তা নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি।”

স্কট মো বরাবরই ফেডারেল লিবারেল সরকারের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। পরিবেশ নীতি, কার্বন ট্যাক্স এবং প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়ন প্রতিটি ইস্যুতেই তিনি অটল বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু বিশ্ববাজারে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক শুল্ক নীতির প্রেক্ষাপটে মো এবার সুর নরম করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে প্রাদেশিক নেতারা এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় ফেডারেল সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও বৈঠক জুড়ে কার্নির প্রশংসা করতে পিছপা হননি। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে “ভদ্র, নম্র ও মেধাবী ব্যবসায়ী” বলে আখ্যা দিয়ে জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপে ফেডারেল সরকারের নেতৃত্ব “প্রশংসার যোগ্য”। বৈঠকের আনুষ্ঠানিক সেশন শেষে কার্নি ও ফোর্ডকে হান্টসভিলের এক কটেজে নৈশভোজে অংশ নিতে দেখা যায়, যেখানে তাঁদের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ রাজনৈতিক উষ্ণতার ইঙ্গিত দেয়।

বৈঠকে আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েলে স্মিথ যুক্তরাষ্ট্র–কানাডা–মেক্সিকো চুক্তি নিয়ে হতাশার সুর তোলেন। মার্কিন প্রশাসনের বার্তা অনুযায়ী ২০২৬ সালের আগে পূর্ণাঙ্গ পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা নেই। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, খাতভিত্তিক আংশিক চুক্তি হতে পারে। স্মিথ বলেন, “ট্রাম্প যেসব খাতকে লক্ষ্যবস্তু করছে—গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও লাম্বার সেসব বিষয়ে কানাডা ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা চাই এসব শিল্পকে সুরক্ষিত রাখতে সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হোক।”

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই বৈঠক ছিল মূলত এক ধরনের কৌশলগত টিম বিল্ডিং অনুশীলন। “টিম কানাডা” হিসেবে ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকার একসঙ্গে কাজ করতে পারলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় কানাডার অবস্থান দৃঢ় হবে। বিশেষ করে অটো শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতে সম্ভাব্য মার্কিন শুল্ক মোকাবিলায় যৌথ কৌশল অপরিহার্য।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, “আমরা সবাই একসঙ্গে আছি এটাই ছিল আমাদের আলোচনার মূল বার্তা। দেশের অর্থনীতি, চাকরি এবং ব্যবসাকে সুরক্ষিত রাখতে ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকার একসঙ্গে কাজ করবে।”

কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে প্রায়শই দ্বন্দ্ব দেখা যায়, বিশেষত জ্বালানি ও পরিবেশ নীতি নিয়ে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক বাণিজ্য সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতি প্রাদেশিক নেতাদের বাস্তবতাবোধে ফিরিয়ে এনেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক প্রমাণ করেছে যে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে একজোট হওয়া এখন সময়ের দাবি। “টিম কানাডা” কৌশল শুধু আন্তর্জাতিক আলোচনায় নয়, দেশীয় শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষায়ও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

Related Articles

Back to top button