টানা সপ্তম মাসের মতো কমেছে কানাডিয়ানদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ

কামরুল ইসলাম

চলতি বছরের জুলাই মাসে টানা সপ্তম মাসের মতো কানাডিয়ান নাগরিকরা তাদের পর্যটন ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য গন্তব্যে খরচ করেছেন।

চলতি বছরের জুলাই মাসে টানা সপ্তম মাসের মতো কানাডিয়ান নাগরিকরা তাদের পর্যটন ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য গন্তব্যে খরচ করেছেন। সীমান্তের দক্ষিণে অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের আগ্রহ কমে গিয়ে কানাডিয়ানদের ভ্রমণ প্রবণতায় এক নতুন ধারা তৈরি হয়েছে।

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসা কানাডিয়ান নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৬ লাখ, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের তুলনায় ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ কম। এটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে, কানাডিয়ানরা তাদের ছুটির গন্তব্য বা কেনাকাটার জন্য আগের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করছেন না।

অন্যদিকে, একই সময়ে কানাডা সফর করেছেন ৩৩ লাখ আমেরিকান নাগরিক, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কম হলেও এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা। এই পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৬ সালের পর এই দ্বিতীয় মাস যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা অন্যান্য গন্তব্যের তুলনায় বেশি ছিল। তবে এই হিসাব থেকে ২০২১ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ তখন কোভিড-১৯ মহামারির বিধিনিষেধে পর্যটনের চিত্র ছিল অস্বাভাবিক।

প্রতিবেদন বলছে, জুলাই মাসে অন্যান্য দেশ থেকে ফিরে আসা কানাডিয়ানদের সংখ্যা বেড়েছে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ইঙ্গিত করছে যে কানাডিয়ানরা তাদের ভ্রমণ ব্যয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন যেমন ইউরোপ, মেক্সিকো, বা এশিয়ার দেশগুলো। এটি কেবল ভ্রমণ পছন্দের পরিবর্তন নয়, বরং বৈদেশিক ব্যয়ের প্রবণতারও পরিবর্তন নির্দেশ করছে।

বিদেশ ভ্রমণ শেষে যারা কানাডায় ফিরেছেন, তাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছেন। যদিও সংখ্যাগতভাবে এটি বড় অংশ, তবে আগের বছরের তুলনায় এটি একটি ২৪ দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস। এটি বোঝায় যে, কানাডিয়ানদের সার্বিক বিদেশ ভ্রমণ তুলনামূলকভাবে কমেছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভ্রমণ।

অন্যদিকে, বিদেশি পর্যটকদের কানাডা সফরে দেখা গেছে ইতিবাচক প্রবণতা। চলতি বছরের জুলাই মাসে বিদেশি পর্যটক আগমন বেড়েছে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ, যা মহামারির পর থেকে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির একটি রেকর্ড। এর মধ্যে ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ জন বিদেশি কানাডায় প্রবেশ করেছেন, এবং তাদের ৮১ দশমিক ৭ শতাংশ এসেছেন আকাশপথে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় ফেরত আসা কানাডিয়ানদের মধ্যেও আকাশপথ ভ্রমণের হার কমেছে। জুলাই মাসে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ জন কানাডিয়ান বিমানযোগে দেশে ফিরেছেন, যা গত বছরের তুলনায় ১৬ দশমিক ২ শতাংশ কম। এটি নির্দেশ করে যে, স্থলপথ বা সমুদ্রপথে ভ্রমণের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে, অথবা ভ্রমণেই সামগ্রিক মন্দা এসেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পরিবর্তনের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে ১. মুদ্রা বিনিময় হার: কানাডিয়ান ডলার বর্তমানে মার্কিন ডলারের তুলনায় দুর্বল, ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা কেনাকাটা ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। ২. উচ্চ জীবনযাত্রার খরচ: যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ও কেনাকাটার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক কানাডিয়ান এখন ইউরোপ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনামূলক সাশ্রয়ী গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন। ৩. নতুন অভিজ্ঞতার আকর্ষণ: দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘প্রধান ভ্রমণ গন্তব্য’ হিসেবে দেখার পর কানাডিয়ানদের মধ্যে এখন বৈচিত্র্য ও নতুন অভিজ্ঞতার তৃষ্ণা দেখা যাচ্ছে।

জুলাইয়ের পরিসংখ্যান এক অর্থে কানাডার পর্যটন বাজারের নতুন দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক ভ্রমণ থেকে সরে গিয়ে কানাডিয়ানরা ধীরে ধীরে বৈশ্বিক পর্যটনের দিকে ঝুঁকছেন, যা ভবিষ্যতে কানাডার অর্থনীতি, এয়ারলাইন শিল্প ও বৈদেশিক ব্যয়ের ধরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Related Articles

Back to top button