বাণিজ্য আক্রান্ত: গভর্নর

জামির হোসেন

কানাডার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মূলত নির্ভর করে বাণিজ্যের ওপর, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই খাত মারাত্মকভাবে চাপে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর টিফ ম্যাকক্লেম।

কানাডার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মূলত নির্ভর করে বাণিজ্যের ওপর, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই খাত মারাত্মকভাবে চাপে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর টিফ ম্যাকক্লেম। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির অস্থিরতা কানাডার অর্থনীতির জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হতে পারে।

মঙ্গলবার সাস্কেচুয়ান ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্ট পার্টনারশীপ (STEP) এবং গ্রেটার সাস্কাটুন চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গভর্নর ম্যাকক্লেম। ব্যাংক অব কানাডার ওয়েবসাইটে পরে তার সম্পূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ করা হয়।

ম্যাকক্লেম বলেন, “কানাডা একটি বাণিজ্যিক দেশ। আমাদের জাতীয় আয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই আসে রপ্তানি থেকে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বলতে হয়, আজ বাণিজ্য আক্রান্ত।”

তার মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রবণতা যেমন জিওপলিটিকাল উত্তেজনা, বাণিজ্য যুদ্ধ, সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক প্রোটেকশনিজম কানাডার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। “আমরা এমন এক সময়ে আছি, যখন বিশ্বের বাণিজ্যিক কাঠামো নতুনভাবে গঠিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে কানাডা পিছিয়ে পড়বে,” বলে জানান তিনি।

কানাডার অভ্যন্তরীণ বাজারকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে আন্তঃপ্রদেশ বাণিজ্য বাধা দূর করার ওপর জোর দেন ম্যাকক্লেম। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরে পেশাগত স্বীকৃতি, লেবার অ্যাক্রিডিটেশন ও নীতিগত পার্থক্যের কারণে ব্যবসায়ীরা প্রায়ই জটিলতার মুখে পড়েন। “এই বাধাগুলো শুধু ব্যবসার খরচ বাড়ায় না, বরং উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতার গতিও কমিয়ে দেয়,” মন্তব্য করেন গভর্নর। তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতারা এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন, যা ইতিবাচক দিক। এখন প্রয়োজন সেই আলোচনা থেকে কার্যকর পদক্ষেপে যাওয়া।”

কানাডার রপ্তানি সম্প্রসারণে অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান ব্যাংক গভর্নর। তিনি বলেন, পূর্ব-পশ্চিম সংযোগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে দেশের ভেতরে পণ্য পরিবহন সহজ হয় এবং বিদেশে রপ্তানি ব্যয় কমে।

ম্যাকক্লেম যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার অতিরিক্ত বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “আমাদের নতুন বন্দর সক্ষমতা তৈরি করতে হবে, যাতে আমরা এশিয়া, ইউরোপসহ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বাজারগুলোতে সহজে পৌঁছাতে পারি। কানাডার সম্ভাবনা অসীম শুধু দরকার সঠিক দিকনির্দেশনা ও সাহসী পদক্ষেপ।”

গভর্নর ম্যাকক্লেম মনে করেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এখন আর কেবল যুক্তরাষ্ট্রই প্রভাবশালী নয়। বরং এখন তিনটি প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে উঠেছে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরো অঞ্চল।

তিনি বলেন, “২০০০ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তার করত, কিন্তু এখন দৃশ্যপট বদলে গেছে। কানাডার উচিত এই নতুন বাস্তবতাকে মাথায় রেখে বাণিজ্য নীতি পুনর্গঠন করা।”

ম্যাকক্লেম কানাডাকে অতীতের মহামন্দা (Great Depression) থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে, অতিরিক্ত নির্ভরতা ও নীতি-অচলাবস্থা অর্থনীতিকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এখনই সময় ভবিষ্যতের জন্য সঠিক প্রস্তুতি নেওয়ার।”

গভর্নর টিফ ম্যাকক্লেমের বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা কানাডার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বাণিজ্য বৈচিত্র্য, অভ্যন্তরীণ বাধা অপসারণ এবং অবকাঠামোগত বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করছে।

তিনি সতর্ক করেছেন, “আমরা যদি নিজেদের আরও প্রতিযোগিতাসক্ষম না করি, তাহলে বৈশ্বিক বাজারে আমাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। এখনই সময় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার।”

Related Articles

Back to top button