বিশ্বকাপ ঘিরে বিএমও ফিল্ডের বড় সংস্কার চলছে

আনাস মোহাম্মদ

টরন্টো সিটি প্রশাসন এবং ম্যাপল লিফ স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট (MLSE) মঙ্গলবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএমও ফিল্ডের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেছে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আর মাত্র এক বছরেরও কম সময় বাকি। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ফুটবল আসরকে ঘিরে কানাডার টরন্টো শহর এখন সাজছে নতুন রূপে। ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে শহরের বিখ্যাত বিএমও ফিল্ড, আর সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই চলছে স্টেডিয়ামের বিশাল সংস্কার ও আধুনিকায়ন কাজ।

টরন্টো সিটি প্রশাসন এবং ম্যাপল লিফ স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট (MLSE) মঙ্গলবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএমও ফিল্ডের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেছে। তারা জানায়, স্টেডিয়ামটিকে বিশ্বমানের সম্প্রচার, প্রযুক্তি এবং দর্শকসুবিধাসম্পন্ন ভেন্যু হিসেবে গড়ে তুলতেই এই সংস্কার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

সংস্কারের প্রথম ধাপে স্টেডিয়ামের চারটি কোণে স্থাপন করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ভিডিও বোর্ড। এর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে নতুন সম্প্রচার অবকাঠামো, যাতে করে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শক আরও উন্নতমানের লাইভ অভিজ্ঞতা পেতে পারেন।

তাছাড়া, দর্শকদের সুবিধার্থে স্টেডিয়ামে থাকবে সেল্ফ-সার্ভিস প্রযুক্তি, উন্নত আতিথেয়তা কক্ষ (হসপিটালিটি স্যুইট) এবং আরও আধুনিক খাবার-দাবারের ব্যবস্থা।

সংস্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় ধাপটি শুরু হবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে। এই পর্যায়ে স্টেডিয়ামে অস্থায়ীভাবে ১৭ হাজার নতুন আসন যোগ করা হবে, যার ফলে বিএমও ফিল্ডের মোট ধারণক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৪৫ হাজার দর্শক।

পাশাপাশি স্টেডিয়ামের খেলার পিচ বা মাঠও আধুনিকায়ন করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক মানের খেলা নির্বিঘ্নে আয়োজন করা যায়। নতুন ডাগআউট নির্মাণের কাজও এই পর্যায়ে সম্পন্ন হবে, যা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য আরও উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো এই তিনটি দেশের যৌথ আয়োজনে। টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হবে মোট ছয়টি ম্যাচ, যার মধ্যে পাঁচটি গ্রুপ পর্বের এবং একটি নকআউট রাউন্ডের খেলা।

সূত্র অনুযায়ী, বিএমও ফিল্ডে প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১২ জুন ২০২৬, এরপর আরও চারটি ম্যাচ হবে ১৭, ২০, ২৩ এবং ২৬ জুনে। নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি নির্ধারিত আছে ২ জুলাই।

যদিও এখনো নির্ধারিত হয়নি কোন কোন দলের ম্যাচ টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হবে, তবে ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত ফিফা ড্রয়ের পর সেটি জানা যাবে।

আয়োজক দেশ হিসেবে কানাডা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১২ জুন বিএমও ফিল্ডেই কানাডা তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে, যা দিয়েই শুরু হবে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। কানাডার পরবর্তী দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ভ্যানকুভারের বিখ্যাত বি.সি. প্লেস স্টেডিয়ামে।

সংস্কার কাজের পাশাপাশি স্টেডিয়ামটিতে চলছে বিভিন্ন অবকাঠামোগত পরীক্ষা। সব কিছু ঠিকভাবে সম্পন্ন হলে, ২০২৬ সালের ১২ মে স্টেডিয়ামটি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপরই শুরু হবে টুর্নামেন্টের শেষ প্রস্তুতি ও মাঠ পরীক্ষার ধাপ।

বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকো তিন দেশ মিলে তৈরি করছে ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মঞ্চ। টরন্টোর বিএমও ফিল্ডের এই সংস্কার প্রকল্প শুধু একটি স্টেডিয়ামের উন্নয়ন নয়; এটি দেশের ফুটবল সংস্কৃতির বিকাশেরও প্রতীক। যদি সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোয়, তাহলে ২০২৬ সালের জুনে টরন্টো সাক্ষী হবে ইতিহাসের এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের।

Related Articles

Back to top button