টিকিট পুনঃবিক্রয়ের সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দিতে চান ফোর্ড

জুমু চৌধুরী

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড বলেছেন, টিকিট পুনঃবিক্রির সর্বোচ্চ মূল্য বেঁধে দিতে আইন কথা ভাবছে তার সরকার

ওয়ার্ল্ড সিরিজের টিকিট নিয়ে টরন্টো ব্লু জেসের সমর্থকদের হতাশা চরমে পৌঁছেছে। মূল বিক্রয়ের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার পর, পুনঃবিক্রয় বাজারে সেই একই টিকিটের দাম এখন কয়েকগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে এখন নতুন আইন প্রণয়নের কথা ভাবছে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের সরকার।

বুধবার কুইন’স পার্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডগ ফোর্ড বলেন, “লোকজনের কাছ থেকে তারা টিকিটের অস্বাভাবিক দাম নিচ্ছে। বাজারে যখন একজনমাত্র বিক্রেতা থাকে, তখন সে দাম নিয়ন্ত্রণ করবেই এটা ঠিক নয়। আমরা চাই না, একটি কোম্পানি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করুক। তাই সরকার এখন টিকিট পুনঃবিক্রির সর্বোচ্চ মূল্য সীমা নির্ধারণে আইন প্রণয়নের কথা ভাবছে।”

ওয়ার্ল্ড সিরিজের চারটি হোম গেমের টিকিট বিক্রি শুরু হয় মঙ্গলবার সকালে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই প্রায় সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু অল্প সময় পরেই দেখা যায়, টিকিটমাস্টারের ওয়েবসাইটে পুনঃবিক্রয়যোগ্য টিকিট পাওয়া যাচ্ছে যেগুলোর দাম মূল মূল্যের তুলনায় বহুগুণ বেশি।

টিকিটমাস্টারের ২২ অক্টোবরের স্ক্রিনশটে দেখা গেছে, ব্লু জেসের ওয়ার্ল্ড সিরিজের টিকিট ফেস-ভ্যালুর তুলনায় কয়েক হাজার ডলার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি বুধবার বিকেল পর্যন্ত ৭ নম্বর ম্যাচের কিছু টিকিট ১৬,০০০ মার্কিন ডলারে তালিকাভুক্ত ছিল, যা সাধারণ ভক্তদের নাগালের অনেক বাইরে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৯ সালেই ফোর্ড সরকার টিকিট পুনঃবিক্রির সর্বোচ্চ মূল্য সীমা সংক্রান্ত আইন বাতিল করেছিল। সেই সময়ের আইনে বলা ছিল কোনো টিকিট পুনরায় বিক্রি করলে তার মূল্য মূল দামের চেয়ে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বেশি হতে পারবে। কিন্তু ফোর্ড সরকার তখন এই আইনকে “অদূরদর্শী” বলে আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করেছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, একই সরকার আবার সেই সীমাবদ্ধতা ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে। এর কারণ হিসেবে সরকার বলছে, টিকিট পুনঃবিক্রয় বাজারে অস্বচ্ছতা ও একচেটিয়া দখল এখন সাধারণ জনগণের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অবশ্য বিরোধীদল এই পরিবর্তনকে সরকারের ব্যর্থ নীতির ফল হিসেবে দেখছে। অন্টারিও গ্রিন পার্টির নেতা মাইক শ্রেইনার বলেন, “যদি ফোর্ড সরকার ২০১৯ সালে সেই আইনটি বাতিল না করত, তাহলে আজ ওয়ার্ল্ড সিরিজের টিকিটের এমন আকাশচুম্বী মূল্য দেখা যেত না। ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে এখন সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।”

বিরোধীদল আরও বলেছে, অন্টারিওর সাধারণ জনগণ এখন টিকিটমাস্টারের মতো বড় করপোরেশনের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরকার যদি আগে থেকেই বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখত, তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, টিকিট পুনঃবিক্রয় বাজারে এক বা দুটি বড় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ ভোক্তাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই ধরনের “মনোপলি মার্কেট” সাধারণত কৃত্রিমভাবে ঘাটতি তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে প্রকৃত ভক্তরা টিকিট থেকে বঞ্চিত হয় এবং কালোবাজারি বাড়ে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার যদি আবার ২০১৯ সালের মতো একটি সীমা নির্ধারণ করে যেমন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পুনঃবিক্রয় অনুমোদন তাহলে এটি বাজারে কিছুটা ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে।

ডগ ফোর্ড সরকারের নতুন আইন প্রণয়নের ভাবনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে পরিস্থিতি যেভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তাতে আইনটি শিগগিরই বাস্তবায়নের পথে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টরন্টো ব্লু জেসের ভক্তরা আশা করছেন, সরকার এবার সত্যিই এমন কিছু করবে যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ ভক্তরাও যুক্তিসংগত মূল্যে টিকিট পেতে পারেন না যে, করপোরেট একচেটিয়ার কারণে তাদের প্রিয় দলকে দেখার সুযোগ হাতছাড়া হবে।

Related Articles

Back to top button