ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’ উদ্যোগে ১ বিলিয়ন ডলার দেবে না কানাডা

মুসা বিশ্বাস

গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন ও শাসন তদারকির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক কাঠামো ‘বোর্ড অফ পিস’-এ স্থায়ী সদস্যপদ পেতে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের প্রস্তাব স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে কানাডা।

গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন ও শাসন তদারকির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক কাঠামো ‘বোর্ড অফ পিস’-এ স্থায়ী সদস্যপদ পেতে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের প্রস্তাব স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে কানাডা। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে চলমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে দেশটির অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাঁপেন এ অবস্থান পরিষ্কার করেন।

শ্যাঁপেন বলেন, “অনেক বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত বাকি রয়েছে, তবে কানাডা কোনোভাবেই এই অর্থ পরিশোধ করবে না।” তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, প্রস্তাবিত বোর্ডের অর্থায়ন, শাসনব্যবস্থা ও কার্যক্রম নিয়ে কানাডার গুরুতর আপত্তি রয়েছে।

এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণের কথা স্বীকার করলেও জানান, কাঠামো, অর্থায়ন ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিস্তারিত এখনও আলোচনার পর্যায়ে। তিনি স্পষ্ট করেন, কানাডা স্থায়ী আসনের বিনিময়ে বিপুল অর্থ প্রদানের চেয়ে সরাসরি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা দিতে বেশি আগ্রহী।

কার্নির ভাষায়, “আমরা চাই অর্থ সরাসরি ফিলিস্তিনিদের কল্যাণে পৌঁছাক। এই মুহূর্তে গাজায় পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারছে না এটাই আমাদের প্রথম ও প্রধান শর্ত।” তাঁর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে চলমান বিতর্কে মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকারকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বোর্ডের সদস্যপদ হবে তিন বছরের জন্য। তবে ‘স্থায়ী সদস্য’ হতে হলে এককালীন ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে। আমন্ত্রণপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে, বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে আজীবন দায়িত্বে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত বোর্ডে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং হাঙ্গেরি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তবে ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশ এখনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি। জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে বৈশ্বিক সংঘাত ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন কাঠামো গড়ার এই উদ্যোগ কতটা গ্রহণযোগ্য হবে তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বোর্ডের উপদেষ্টা কমিটিতে তুরস্ক ও কাতারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইসরায়েল আপত্তি তুলেছে। অন্যদিকে, বোর্ডের মূল প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য মোসাদের যাচাই করা ১৫ জন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে যা ফিলিস্তিনি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এ প্রেক্ষাপটে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়টিও অনিশ্চয়তায় রয়েছে। প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির বেশ কয়েকটি শর্ত এখনও পূরণ না হলেও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় ধাপ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই ধাপে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, গাজা পুনর্গঠন ও শাসন তদারকির প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর কাঠামো, অর্থায়ন ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। কানাডার অর্থনৈতিক অস্বীকৃতি সেই বিতর্ককে আরও গভীর করল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Related Articles

Back to top button