মাদক ডিক্রিমিনালাইজেশন প্রকল্প বন্ধে ফার্স্ট নেশন নেতাদের কড়া সমালোচনা

মাসুদ করিম

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় (বিসি) মাদক ব্যবহারকে অপরাধমুক্ত করার (ডিক্রিমিনালাইজেশন) তিন বছরের পরীক্ষামূলক প্রকল্প বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে “গুরুতর ভুল” বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রদেশটির ফার্স্ট নেশন নেতারা।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় (বিসি) মাদক ব্যবহারকে অপরাধমুক্ত করার (ডিক্রিমিনালাইজেশন) তিন বছরের পরীক্ষামূলক প্রকল্প বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে “গুরুতর ভুল” বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রদেশটির ফার্স্ট নেশন নেতারা। তাদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান বৈষম্য আরও বাড়াবে এবং বিষাক্ত মাদক সংকট মোকাবিলায় নেওয়া জনস্বাস্থ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিসিকে আবার অপরাধকেন্দ্রিক পথে ফিরিয়ে নেবে।

ইউনিয়ন অফ বিসি ইন্ডিয়ান চিফস (ইউবিসিআইসি)-এর প্রেসিডেন্ট গ্র্যান্ড চিফ স্টুয়ার্ট ফিলিপ বলেন, প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত “ট্রমা আরও গভীর করবে, পুলিশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদকে শক্তিশালী করবে এবং স্বাস্থ্য ও বিচার ব্যবস্থায় ফার্স্ট নেশন জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্যমান বৈষম্যকে আরও প্রকট করে তুলবে।”

২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১৮ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিরা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ ২.৫ গ্রাম পর্যন্ত অবৈধ মাদক বহন করতে পারতেন। চলতি মাসের শেষেই প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং প্রাদেশিক সরকার এটি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ২০১৬ সালে বিষাক্ত মাদক সংকটকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন ফার্স্ট নেশন জনগণ।

ইউবিসিআইসি-এর সেক্রেটারি-ট্রেজারার চিফ মেরিলিন স্লেট বলেন, প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত “সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের আরও ঝুঁকিতে ঠেলে দেবে।” ফার্স্ট নেশন হেলথ অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বিষাক্ত মাদকজনিত মৃত্যুহার ফার্স্ট নেশন জনগণের মধ্যে অন্যান্য বিসি বাসীর তুলনায় ৫.৪ গুণ বেশি ছিল।

সংগঠনটির মতে, ডিক্রিমিনালাইজেশন ছিল ক্ষতি কমানো, ওভারডোজজনিত মৃত্যু হ্রাস এবং ফার্স্ট নেশন জনগণের অপরাধবিচার ব্যবস্থায় অতিরিক্ত উপস্থিতি কমানোর জন্য নেওয়া প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোর একটি। কিন্তু প্রকল্প বন্ধের মাধ্যমে বিসি সরকার আবারও জনস্বাস্থ্য সংকটকে অপরাধের দৃষ্টিতে দেখছে, যার নেতিবাচক প্রভাব আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপরই বেশি পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।

ইউবিসিআইসি অভিযোগ করেছে, প্রাদেশিক সরকার এই পাইলট প্রকল্পকে সফল করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়নি। প্রতিরোধ, ক্ষতি কমানো, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে যথেষ্ট বিনিয়োগ না করেই প্রকল্পের ফলাফলকে ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

অন্যদিকে বিসির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোসি অসবর্ন বলেন, মাদক ব্যবহারের প্রতি সমাজে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কমানো এবং মানুষকে চিকিৎসার দিকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি চালু হয়েছিল। তবে তার মতে, প্রত্যাশিত ফল না আসায় সরকার এটি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভ্যাঙ্কুভারের ডাউনটাউন ইস্টসাইড এলাকায় গৃহহীন ও মাদক ব্যবহারকারীদের নিয়ে কাজ করা অ্যাবরিজিনাল ফ্রন্ট ডোরের নির্বাহী পরিচালক ক্রিস লিভিংস্টোন বলেন, নীতিগত পরিবর্তন হলেও বাস্তবে খুব বেশি কিছু বদলায়নি। তার ভাষায়, “এখনও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় মাদক ব্যবহার করছে। মূল সমস্যা অ্যাকসেসের এখানে সহজলভ্য যেটা আছে তা হলো বিষাক্ত মাদক। মানুষ জানে, বিষাক্ত সরবরাহের পরিবর্তে নিরাপদ সরবরাহ দরকার।”

ভ্যাঙ্কুভার পুলিশ বিভাগের উপপ্রধান অ্যালিসন লরিন জানান, পাইলট প্রকল্পটি পুলিশের কিছু ক্ষমতা সীমিত করেছিল, যা এখন আবার ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধানে মাদক গ্রহণের কেন্দ্রগুলো চালু থাকবে এবং সেখানে মানুষকে নিরাপদভাবে মাদক ব্যবহারের দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। তবে লিভিংস্টোনের মতে, বাস্তব চাহিদা পূরণে এসব কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ানো জরুরি।

বিসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রকল্প নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত বিষয়ে তারা আদিবাসী অংশীদারদের অবহিত করা শুরু করেছে এবং বিষাক্ত মাদক সংকট মোকাবিলায় ফার্স্ট নেশনদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। তবে ফার্স্ট নেশন নেতাদের আশঙ্কা, যথাযথ জনস্বাস্থ্যভিত্তিক বিনিয়োগ ও নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে এই সিদ্ধান্ত বিষাক্ত মাদক সংকটকে আরও গভীর করবে এবং এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে আদিবাসী জনগণকেই।

This article was written by Masud Karim as part of the LJI

Related Articles

Back to top button