ডলারামায় ঝুঁকছেন কানাডিয়ানরা

মুসা বিশ্বাস

গত এক বছরে নিয়মিত ডলারামা থেকে কেনাকাটা করা লিনা রিচি বললেন, “এখানে যা খরচ করছি, তার প্রকৃত মূল্যটা পাচ্ছি।

ঝোড়ো বাতাস আর কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করেও শনিবার সকালে টরন্টোর স্কারবোরোর পূর্ব প্রান্তে একটি ডলারামা স্টোরের পার্কিং লট ছিল কানায় কানায় ভরা। ঠান্ডার দিনে সাধারণত যেখানে মানুষ ঘরছাড়া হতে চায় না, সেখানে উল্টো চিত্র কানাডার এই বাজেট রিটেইলারটিতে ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। দৃশ্যটি যেন বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

গত এক বছরে নিয়মিত ডলারামা থেকে কেনাকাটা করা লিনা রিচি বললেন, “এখানে যা খরচ করছি, তার প্রকৃত মূল্যটা পাচ্ছি। আমার মনে হয় অন্তত ১৫ ডলার সাশ্রয় হয়েছে। এই টাকা দিয়ে আমি মাংসের মতো জরুরি গ্রোসারি পণ্য কিনতে পারব।” তাঁর কথায় উঠে আসে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের বাস্তব অভিজ্ঞতা দৈনন্দিন খরচ সামলাতে সাশ্রয়ী বিকল্পের খোঁজ।

এই ক্রেতা-প্রবণতার প্রতিফলন মিলেছে ডলারামার সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফলেও। প্রতিষ্ঠানটি তাদের চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের আয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, প্রান্তিকটিতে ডলারামার মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ১৭ লাখ ডলার, যা আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। গত বছরের একই সময়ে তাদের মুনাফা ছিল ২৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।

শুধু মুনাফাই নয়, বিক্রয়েও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তৃতীয় প্রান্তিকে ডলারামার মোট বিক্রয় আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ১৫৬ কোটি ডলারে। চলতি হিসাব বছরে কোম্পানিটির বিক্রয়ের পূর্বাভাস ধরা হয়েছে প্রায় ১৯১ কোটি ডলার যা বাজারে তাদের শক্ত অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ভোক্তাদের ব্যয়ের ধরণে বড় পরিবর্তন। কার্লেটন ইউনিভার্সিটির স্প্রট স্কুল অব বিজনেসের সহযোগী অধ্যাপক ইয়ান লি বলেন, “এটা স্পষ্ট প্রমাণ যে ভোক্তারা চাপের মধ্যে আছেন। বিশেষ করে মোটামুটি আয়ের মানুষজন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা কম খরচে জীবনযাপনের উপায় খুঁজছেন।” তাঁর মতে, এই কারণেই ক্রেতারা ওয়ালমার্ট, কস্টকো কিংবা লবলস ও সোবিসের মতো বড় গ্রোসারি চেইন ছেড়ে ডলার স্টোরের দিকে ঝুঁকছেন, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কম।

ইয়ান লি আরও ব্যাখ্যা করেন, খুচরা বাজারে এক খাতের উত্থান প্রায়ই অন্য খাতের মন্দার সঙ্গে যুক্ত থাকে। “যখন কোনো নির্দিষ্ট রিটেইল সেগমেন্টে উল্লম্ফন ঘটে, তখন সাধারণত অন্য খাতের বিক্রি কমে যায়। বর্তমানে সেটাই হচ্ছে। ক্রেতারা লবলস, মেট্রো বা সোবিসের মতো তুলনামূলক ব্যয়বহুল স্টোর থেকে সরে এসে ডলার স্টোরে যাচ্ছেন কম দামে পণ্য পাওয়ার আশায়।”

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় এই প্রবণতা আপাতত অব্যাহত থাকতে পারে। ডলারামার মতো বাজেট রিটেইলারদের জন্য এটি যেমন ব্যবসায়িক সাফল্য বয়ে আনছে, তেমনি বৃহত্তর অর্থনীতির জন্য এটি ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপের একটি সতর্কবার্তাও দিচ্ছে।

Related Articles

Back to top button