মেয়র নির্বাচনে চাউ ও টরির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস

মাহবুবুল আলম

মেয়র অলিভিয়া চাউ

নতুন এক জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে, এ বছর অনুষ্ঠিতব্য টরন্টোর মেয়র নির্বাচনে বর্তমান মেয়র অলিভিয়া চাউ এবং সাবেক মেয়র জন টরি দু’জনই যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন, তাহলে নির্বাচনটি হতে চলেছে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি। সমীক্ষার ফলাফলে যদিও দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিকভাবে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন অলিভিয়া চাউ।

লিয়াজোঁ স্ট্র্যাটেজিস পরিচালিত এই সমীক্ষা অনুযায়ী, এই মুহূর্তে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ৩৯ শতাংশ ভোটার অলিভিয়া চাউকে ভোট দিতে আগ্রহী। অন্যদিকে সাবেক মেয়র জন টরির পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চাউ কিংবা টরি কেউই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি।

এদিকে, টরন্টো সিটি কাউন্সিলে অলিভিয়া চাউয়ের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত কাউন্সিলর ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড ইতিমধ্যেই মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১৬ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, আগামী মেয়র নির্বাচনে তারা ব্র্যাডফোর্ডকে ভোট দেবেন। যদিও জনসমর্থনের বিচারে তিনি এখনো চাউ ও টরির তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন।

তবে ব্র্যাডফোর্ডের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দিক হলো, তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে পরিচালিত আরেকটি সমীক্ষায় মাত্র ৮ শতাংশ ভোটার তাকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছিলেন। সেই তুলনায় সাম্প্রতিক সমীক্ষায় তার সমর্থন দ্বিগুণ হওয়াকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

এর পাশাপাশি, আগের মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়া অ্যান্থনি ফিউরিকে এবার ভোট দিতে আগ্রহী ৬ শতাংশ ভোটার। আরও ৪ শতাংশ ভোটার অন্য কোনো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এখনো সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন ৬ শতাংশ ভোটার।

লিয়াজোঁ স্ট্র্যাটেজিসের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ভ্যালেন্টিন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় জন টরি কার্যত একটি ‘ওয়াইল্ডকার্ড’। তার কথায়, “গত কয়েক মাসে টরি পুরোপুরি নীরব ছিলেন না। তিনি রেডিও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, শহরের নানা বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। এসবই ইঙ্গিত দেয় যে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন।”

তবে ভ্যালেন্টিনের মতে, যদি জন টরি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ না নেন এবং অলিভিয়া চাউকে যদি একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়, তাহলে চাউয়ের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি থাকবে।

উল্লেখ্য, এই সমীক্ষাটি ১৯ থেকে ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে টরন্টোর এক হাজার বাসিন্দার ওপর পরিচালিত হয়। সমীক্ষার ফলাফল ঘিরে ইতিমধ্যেই শহরের রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে, আর মেয়র নির্বাচনের আগে আগামী কয়েক মাসে সমীকরণ কতটা বদলায়, সেদিকেই এখন সবার নজর।

Related Articles

Back to top button