ড্রেকের নতুন প্রকল্পে টরন্টোর কিশোর প্রযোজক

আনাস মোহাম্মদ

সাধারণত স্কুলের রাতগুলোতে পড়াশোনা শেষ করে বিশ্রামের প্রস্তুতি নেয় অধিকাংশ কিশোর।

সাধারণত স্কুলের রাতগুলোতে পড়াশোনা শেষ করে বিশ্রামের প্রস্তুতি নেয় অধিকাংশ কিশোর। কিন্তু গত গ্রীষ্মে এক স্কুল রাতেই ১৬ বছর বয়সী আরহাম পলের জীবনে এমন একটি সুযোগ এসে ধরা দেয়, যা অনেক প্রতিষ্ঠিত সংগীতশিল্পীর কাছেও স্বপ্নের মতো।

টরন্টোভিত্তিক এই তরুণ প্রযোজক তখন ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় বেজে ওঠে তার ফোন। ওপাশ থেকে আসে এক অবিশ্বাস্য খবর বিশ্বখ্যাত কানাডিয়ান র‌্যাপার ড্রেকের নতুন সংগীত প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আরহামের এক সহকর্মী বিটমেকার ড্রেকের টিমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং একটি বিশেষ গানের জন্য ১৯৮০-এর দশকের সংগীতধারার আদলে একটি আকর্ষণীয় ‘হুক’ বা মুখ লেখার প্রয়োজন পড়েছে।

সুযোগটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে মুহূর্তের জন্যও তা বিশ্বাস করতে পারেননি আরহাম। কিন্তু বিস্ময় কাটিয়ে দ্রুত কাজে নেমে পড়েন তিনি। “আমরা সেদিন রাতে ঘুমাইনি,” স্মৃতিচারণ করে বলেন আরহাম পল। স্কুলের পরদিন ক্লাস থাকলেও বিশ্রামের কথা ভাবেননি তিনি। বরং মায়ামিভিত্তিক প্রযোজক সেবাস লোপেজের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করে একটি শক্তিশালী ও স্মরণীয় মেলোডিক হুক তৈরিতে মনোনিবেশ করেন।

এক সাক্ষাৎকারে আরহাম জানান, ড্রেকের মতো একজন আন্তর্জাতিক সুপারস্টারের অ্যালবামে কাজ করার ডাক পাবেন এমনটা কখনও কল্পনাও করেননি। তার ভাষায়, “আমি সত্যিই অবাক হয়েছিলাম। কারণ ড্রেকের কোনো ট্র্যাকে কাজ করার সুযোগ পাব, এটা আমার প্রত্যাশার বাইরে ছিল। কিন্তু যখন ড্রেকের টিম ৮০-এর দশকের ধাঁচের একটি হুক খুঁজছিল, তখন সেবাস আমাকে ফোন করে। সে জানত আমি এই ধরনের কাজ করতে পারব।”

আরহামের সেই রাতের পরিশ্রম বৃথা যায়নি। তিনি যে দুটি গানের লেখালেখিতে সহযোগিতা করেছিলেন, তার মধ্যে একটি গান পরবর্তীতে শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং ধীরে ধীরে আধুনিক সংগীতপ্রেমীদের কাছে একটি স্মরণীয় ট্র্যাকে পরিণত হয়। তবে এত বড় সাফল্যের পরও আরহাম নিজেকে এখনও শেখার পর্যায়ে থাকা একজন তরুণ শিল্পী হিসেবেই দেখেন। বিল হোগার্থ সেকেন্ডারি স্কুলের এই শিক্ষার্থী মনে করেন, তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় যাত্রা এখনও শুরু হয়েছে মাত্র।

স্কুলজীবনের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ড্রেকের অ্যালবামে কাজ করার খবর প্রকাশ্যে আসার পর পুরো স্কুলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। “সবাই আমাকে জিজ্ঞাসা করছে এটা কীভাবে সম্ভব হলো? পুরো স্কুলে এ নিয়ে আলোচনা চলছে,” বলেন তিনি।

শুধু সহপাঠীরাই নন, স্কুলের শিক্ষক ও প্রশাসনের সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বসিত। এমনকি স্কুলের অধ্যক্ষও ব্যক্তিগতভাবে তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, “তুমি কি সত্যিই ড্রেকের অ্যালবামে কাজ করেছ?” আরহাম বলেন, “এটা অসাধারণ অনুভূতি। শিক্ষকরা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন। আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারি না যে সবকিছু এত দ্রুত ঘটছে।”

সংগীত শিল্পে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাদের জন্য আরহাম পলের গল্প একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ। একদিকে স্কুলের পড়াশোনা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানের সংগীত প্রযোজনার জগতে নিজের জায়গা তৈরি করার সংগ্রাম দুই ক্ষেত্রেই সমানভাবে এগিয়ে চলেছেন তিনি।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংগীত তারকার প্রকল্পে অবদান রাখা প্রমাণ করে যে প্রতিভা, নিষ্ঠা এবং সঠিক সময়ে সুযোগের সদ্ব্যবহার একজন তরুণের জীবন কত দ্রুত বদলে দিতে পারে। আরহাম পলের এই যাত্রা হয়তো ভবিষ্যতের আরও বড় সাফল্যের সূচনা মাত্র।

Related Articles

Back to top button