
স্কুলের জমি ভবিষ্যতে আবাসন নির্মাণের জন্য বিক্রি হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার সকালে টরন্টোর বিভিন্ন স্কুলের সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন বহু অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, স্কুলের জমি কেবল শিক্ষার জন্য নয়, বরং একটি কমিউনিটির সামাজিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই জমিগুলিকে আবাসন প্রকল্পের আওতার বাইরে রাখতেই হবে।
শহরের ওসিংটন অ্যাভিনিউ ও কলেজ স্ট্রিট সংলগ্ন ডিউসন স্ট্রিট পাবলিক স্কুলের সামনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে অংশ নিয়ে অভিভাবক মারিয়া জুডাস বলেন, “এটি শুধু একটি স্কুলের প্রশ্ন নয়। এটি আমাদের কমিউনিটির উন্মুক্ত পরিসর, সবুজ এলাকা, শিশুদের খেলার মাঠ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত জায়গার বিষয়। এই ধরনের জমি বাণিজ্যিক উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।”
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আবাসন সংকট মোকাবিলার নামে শহরের প্রশাসন এমন নীতি গ্রহণ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনস্বার্থের ক্ষতি করতে পারে। তাদের মতে, স্কুলের জমি একবার আবাসন প্রকল্পে ব্যবহৃত হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর, যখন সিটি অব টরন্টো শহরের প্রধান প্রধান সড়কের পাশে ১৪ তলা পর্যন্ত আবাসিক ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন এই নীতির আওতায় এমন কিছু স্কুলের জমিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যেগুলোর কিছু অংশ বর্তমানে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। ক্রমবর্ধমান জনচাপের মুখে পরে সিটি কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে এবং স্কুল-সংক্রান্ত জমিগুলিকে এই আবাসন নীতির আওতার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি বিতর্ক।
সিটি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্টারিও ল্যান্ড ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছে টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড (টিডিএসবি) এবং টরন্টো ক্যাথলিক ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড। স্কুল বোর্ডগুলির যুক্তি, ভবিষ্যতে যদি কোনো জমি তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলে বিবেচিত হয়, তাহলে সেই সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ শিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
টিডিএসবির এক মুখপাত্র জানান, “আমাদের আপিলের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করা এবং বোর্ডের সম্পদের মূল্য সংরক্ষণ করা। ভবিষ্যতে যদি কোনো অতিরিক্ত জমি বিক্রি করা হয়, তবে সেই রাজস্ব স্কুল আধুনিকীকরণ তহবিল, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অন্যান্য মূলধনী প্রকল্পে ব্যয় করা যাবে।”
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। তাদের মতে, বর্তমান সময়ে কোনো জমি অব্যবহৃত মনে হলেও ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিক্ষা অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে একবার বিক্রি হয়ে যাওয়া জমি আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে না।
বিশেষজ্ঞদের একাংশও মনে করছেন, আবাসন সংকট মোকাবিলা যেমন জরুরি, তেমনই শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উন্মুক্ত সবুজ পরিসর রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে উন্নয়ন ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন টরন্টো প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে অন্টারিও ল্যান্ড ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের। কারণ এই রায়ের ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে স্কুল-সংলগ্ন জমির ব্যবহার, শিক্ষা অবকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং শহরের আবাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।



