দ্বিতীয় প্রান্তিকে কানাডিয়ান অর্থনীতির ১.৬% সংকোচন

আলী আহমেদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কনীতির চাপ দ্বিতীয় প্রান্তিকে কানাডার অর্থনীতিকে দৃশ্যত ধীরগতিতে নামিয়ে এনেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কনীতির চাপ দ্বিতীয় প্রান্তিকে কানাডার অর্থনীতিকে দৃশ্যত ধীরগতিতে নামিয়ে এনেছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বার্ষিক ভিত্তিতে ১.৬ শতাংশ কমেছে যা প্রত্যাশার তুলনায় অধিক দুর্বল পারফরম্যান্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রপ্তানি খাতে বড় ধরনের পতন এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কমে যাওয়াই এই সংকোচনের মূল কারণ। তুলনামূলকভাবে প্রথম প্রান্তিকে কানাডার অর্থনীতি ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। যদিও শুরুতে এই প্রবৃদ্ধির হার ২.২ শতাংশ হিসেবে ধরা হয়েছিল, পরে সংশোধন করে তা ২ শতাংশে নামিয়ে আনে সংস্থাটি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় প্রান্তিকে কানাডা ও বিশ্বের কয়েকটি দেশকে লক্ষ্য করে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও অটোমোবাইল খাতে শুল্ক বৃদ্ধি করেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কানাডিয়ান রপ্তানি খাতে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা জানিয়েছে যাত্রীবাহী গাড়ি ও লাইট ট্রাকের রপ্তানি ২৪.৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। শিল্প যন্ত্রপাতি, ইকুইপমেন্ট ও যন্ত্রাংশের রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণসেবার রপ্তানিতেও পতন লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসায়ীরা শুল্ক এড়াতে বছরের শুরুতেই অধিক পরিমাণে ক্রয়াদেশ দিয়েছিলেন। ফলে প্রথম প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে এর উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে যন্ত্রপাতি ও ইকুইপমেন্ট খাতে বিনিয়োগ ৯.৪ শতাংশ কমে গেছে যা ২০১৬ সালের পর সবচেয়ে বড় পতন (কোভিড-১৯ সময়কাল হিসাবের বাইরে রাখলে)। বিনিয়োগ হ্রাসের এই প্রবণতা ভবিষ্যতে উৎপাদনশীলতা ও নতুন কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন।

ওয়াশিংটনের শুল্কবৃদ্ধির মোকাবেলায় অটোয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। এর ফলে আমেরিকান কোম্পানিগুলো কানাডায় পণ্য রপ্তানিতে অনাগ্রহী হয়ে ওঠে, যা কানাডার আমদানিতেও সুস্পষ্ট হ্রাস ঘটায়। পাশাপাশি চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে কানাডিয়ানদের যুক্তরাষ্ট্রগামী ভ্রমণও কমে গেছে যা সেবা খাত ও রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

জুন মাসে কানাডার প্রকৃত জিডিপি ০.১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অথচ প্রাথমিক হিসাবে ওই মাসে ০.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করা হয়েছিল। খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় – পণ্য উৎপাদন খাতে পতন ০.৫ শতাংশ, সেবা খাতে পতন ০.১ শতাংশ। এই দুই খাতের দুর্বল পারফরম্যান্স মিলেই সামগ্রিক জিডিপি নেতিবাচক অঞ্চলে ঠেলে দিয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা কানাডার অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে অটোমোবাইল ও ধাতুবিষয়ক শিল্পের ওপর শুল্কের বাড়তি চাপ দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।

অন্যদিকে, সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে উপযুক্ত নীতি পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে কিনা, তা নির্ভর করবে বাণিজ্য সম্পর্কের উত্তেজনা কত দ্রুত কমে আসে এবং বিনিয়োগ কতটা পুনরুদ্ধার হয় তার ওপর।

Related Articles

Back to top button