আরসিএমপি নিয়ে বক্তব্যের পক্ষে পয়লিয়েভরের সাফাই

মাসুদ করিম

রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) নিয়ে করা বক্তব্যের প্রতি নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন কনজার্ভেটিভ নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভর

কানাডার কনজার্ভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভর রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) সংক্রান্ত নিজের বক্তব্য নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে জেলে পাঠানো উচিত – এমন কোনো মন্তব্য তিনি কখনও করেননি।

সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেল নর্দার্ন পারস্পেক্টিভ-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সেখানে পয়লিয়েভর আরসিএমপি নেতৃত্বের সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন যে, সংস্থাটি ট্রুডোকে রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষা দিচ্ছে। তবে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি দাবি করেন, “আমি যা বলিনি, সেটাই প্রচার করা হচ্ছে।”

পয়লিয়েভরের মতে, সাক্ষাৎকারের বক্তব্য বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি কখনও বলিনি যে ট্রুডোকে জেলে যেতে হবে। আমি শুধু বলেছি তার সময়কার কিছু কেলেঙ্কারির বিচার হওয়া উচিত ছিল, যা হলে হয়তো তিনি আইনি জবাবদিহিতার মুখে পড়তেন।”

সাক্ষাৎকারে পয়লিয়েভর অভিযোগ করেন, ট্রুডো সরকারের মেয়াদে বেশ কিছু গুরুতর কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর তদন্তে আরসিএমপি যথাযথ ভূমিকা রাখেনি। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, সরকারি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন ধনকুবেরের কাছ থেকে বিনামূল্যে অবকাশযাপনের সুবিধা নেওয়ার ঘটনায় ট্রুডো আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছিলেন।

তার বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন, “যদি আরসিএমপি তার কাজটা যথাযথভাবে করত এবং প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা না করত, তাহলে তিনি হয়তো ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হতেন।”

তবে বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে পয়লিয়েভর স্পষ্ট করেন, তার সমালোচনা কেবলমাত্র আরসিএমপির সাবেক কমিশনার ব্রেন্ডা লাস্কি-কে কেন্দ্র করে। তিনি বলেন, “আমি প্রতিষ্ঠান নয়, নেতৃত্বের দায়িত্বহীনতার সমালোচনা করেছি।”

পয়লিয়েভরকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেন তার দলের সব এমপি কি এখনও তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ? উত্তরে তিনি আত্মবিশ্বাসীভাবে বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই।” পরদিন সকালে অনুষ্ঠিত কনজার্ভেটিভ ককাস সভায় দলের এমপিরা উপস্থিতও ছিলেন, যা তার বক্তব্যকে সমর্থন করে।

হাউস লিডার অ্যান্ড্রু শিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, “দেশ এখন পাঁচটি বড় সমস্যার মোকাবিলা করছে যার মধ্যে কর্মসংস্থান সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতি সবচেয়ে গুরুতর।”

একই দিনে কনজার্ভেটিভ এমপি টড ডোহার্টিও পয়লিয়েভরকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা কেন বেকারত্ব বা অপিয়ড সংকটের মতো আসল সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করছেন না? এসব বিষয়েই আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পয়লিয়েভর তার বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক থেকে দূরে থাকতে চাইছেন। তার লক্ষ্য ট্রুডোর অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জনমত তৈরি করা, তবে সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণ না করা। একইসঙ্গে, আরসিএমপি-র কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব আছে কি না, সে বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করাও তার কৌশলের অংশ।

বর্তমানে কানাডার রাজনৈতিক অঙ্গনে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, এবং সামাজিক সঙ্কট ইস্যুগুলোতে কনজার্ভেটিভ পার্টি সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরতে চায়। পয়লিয়েভরের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোও সেই কৌশলেরই সম্প্রসারণ, যদিও আরসিএমপি নিয়ে করা মন্তব্য এখন তার জন্য এক ধরনের বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পিয়েরে পয়লিয়েভর এখন একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করছেন একদিকে ট্রুডো সরকারের সমালোচনা, অন্যদিকে নিজের রাজনৈতিক বার্তাকে বিকৃত ব্যাখ্যা থেকে রক্ষা করা। সময়ই বলবে, এই অবস্থান তাকে রাজনৈতিকভাবে কতটা লাভবান করে।

This article was written by Masud Karim as part of the LJI

Related Articles

Back to top button