বর্ণবাদ সংক্রান্ত অভিযোগ পাত্তা না দেওয়ার অভিযোগ

মাহবুবুল আলম

কানাডার পররাষ্ট্র দপ্তর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (GAC) আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছে বর্ণবাদ এবং বৈষম্য সংক্রান্ত অভিযোগে।

কানাডার পররাষ্ট্র দপ্তর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (GAC) আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছে বর্ণবাদ এবং বৈষম্য সংক্রান্ত অভিযোগে। সংস্থাটির সাবেক এক কৃষ্ণাঙ্গ নারী কর্মী অভিযোগ করেছেন, তার প্রতি প্রতিষ্ঠানটি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে এবং অভিযোগগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে উপেক্ষা করেছে।

এই সাবেক কর্মী, মদিনা ইলতিরেহ, ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার বিদেশি অনুদান প্রশাসন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। বুধবার তিনি পার্লামেন্ট হিলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমি কানাডার প্রতিনিধিত্ব করলেও, কানাডা আমাকে প্রতিনিধিত্ব করে না।”

সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে কোয়ালিশন এগেইনস্ট ওয়ার্কপ্লেস ডিসক্রিমিনেশন, যেখানে অংশ নেয় ব্ল্যাক ক্লাস অ্যাকশন সেক্রেটারিয়েট একটি সংগঠন যা কানাডার সরকারি সেবায় বিদ্যমান পদ্ধতিগত বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করছে।

কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি সেবার বহু বিভাগে কৃষ্ণাঙ্গ, মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু কর্মীরা বছরের পর বছর বৈষম্যের শিকার হলেও অধিকাংশ অভিযোগই অভ্যন্তরীণভাবে খারিজ হয়ে যায়। তারা বর্তমানে পুরো পাবলিক সার্ভিস ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক আইনি আপিল পরিচালনা করছে। অনুমান করা হচ্ছে, মামলাটির বিষয়ে ফেডারেল কোর্টের চূড়ান্ত রায় দিতে আরও এক বছর সময় লাগতে পারে।

মদিনা ইলতিরেহ জানান, তিনি একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী এবং হিজাব পরেন এই পরিচয়ের কারণে বহুবার বৈষম্যের মুখে পড়েছেন। কানাডার কুয়েতে অবস্থিত দূতাবাসে কর্মরত অবস্থায় তাকে নানাভাবে ভয় দেখানো হয় এবং অপমানজনক আচরণ করা হয়।

গত মে মাসে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, কুয়েত দূতাবাসের নেতৃত্ব ইলতিরেহকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে কাজের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে দূতাবাসের প্রধানের দায়িত্বহীনতার কথাও উল্লেখ করা হয়।

ইলতিরেহ বলেন, “যেখানে আমি তিন বছর কাজ করেছি, সেটি ছিল এক বিষাক্ত পরিবেশ। প্রতিদিন মনে হতো যেন দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”

কোয়ালিশনের অভিযোগ, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্যানেল বারবার প্রভাবিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং বর্ণবাদ সংক্রান্ত অভিযোগগুলোকে অগ্রাহ্য করছে। ইলতিরেহসহ আরও দুইজন কর্মীর অভিযোগ কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বিবেচনা ছাড়াই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

ব্ল্যাক ক্লাস অ্যাকশন সেক্রেটারিয়েটের পক্ষ থেকে বলা হয়, “এই ধরনের ঘটনাগুলো শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি কানাডার সরকারি সেবায় গেঁথে থাকা একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার প্রতিফলন।”

এই ঘটনার পর কানাডায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নীতিমালা প্রণয়ন করলেই হবে না, তার প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।

ইলতিরেহ বলেন, “আমি ন্যায়বিচার চাই আমার জন্য নয়, বরং সেইসব মানুষদের জন্য, যারা এখনও ভয় ও নীরবতার মধ্যে কাজ করছে।”

গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এই অভিযোগ দেশটির সরকারি চাকরি ব্যবস্থার ভেতরে বিদ্যমান কাঠামোগত বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই মামলায় আদালত প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের প্রমাণ পায়, তাহলে এটি কানাডার প্রশাসনিক সংস্কারে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।

Related Articles

Back to top button