নতুন চাকরির খোঁজে কানাডার এক-তৃতীয়াংশ পেশাজীবী

আলী আহমেদ

২০২৬ সালের শুরুতেই নতুন চাকরি খোঁজার পরিকল্পনা করছেন কানাডার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পেশাজীবী।

২০২৬ সালের শুরুতেই নতুন চাকরি খোঁজার পরিকল্পনা করছেন কানাডার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পেশাজীবী। মেধা ব্যবস্থাপনা ও নিয়োগসংস্থা রবার্ট হাফ–এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন চিত্রই উঠে এসেছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, উন্নত সুযোগ–সুবিধার প্রত্যাশা এবং ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সীমাবদ্ধতা কর্মীদের চাকরি পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলছে।

রবার্ট হাফ নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে প্রায় দুই হাজার কর্মজীবী ও চাকরিপ্রত্যাশী কানাডিয়ানের ওপর এই সমীক্ষা চালায়। এতে দেখা যায়, প্রতি তিনজন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে একজন জানিয়েছেন যে তারা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই বর্তমান চাকরি ছাড়ার কথা ভাবছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে একই ধরনের সমীক্ষার তুলনায় এই হার ৭ শতাংশ বেশি।

রবার্ট হাফ ইস্টার্ন কানাডার জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক পরিচালক মাইকেল ও’লিয়ারি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকলেও কর্মীদের চাহিদা বৃদ্ধি সেই চাপ অনেকটাই পুষিয়ে দিচ্ছে। তার ভাষায়, “মানুষ এখন আগের তুলনায় কিছুটা বেশি স্বস্তি অনুভব করছে। তারা শুধু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে না, বরং সক্রিয়ভাবে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, চাকরির বাজারে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরলেও জীবনযাত্রার ব্যয় এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে বাসাভাড়া সব কিছুর দামই বেড়েছে, যা কর্মীদের আয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, চাকরি পরিবর্তনের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উন্নত পার্ক ও বেনিফিট। স্বাস্থ্যসেবা, ছুটি, নমনীয় কাজের সময় এবং দূর থেকে কাজের সুযোগ এই বিষয়গুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বেতন এবং বর্তমান পদে ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার সীমিত সুযোগ এই দুটি বিষয়ও চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে।

ও’লিয়ারি বলেন, “আমরা যখন বাজার নিয়ে কথা বলি, তখন দেখতে পাই জীবনযাত্রার ব্যয় ও পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এটি স্বাভাবিকভাবেই সবার মনে গভীর প্রভাব ফেলছে।”

এই গবেষণার প্রতিক্রিয়ায় মন্ট্রিলের এক বাসিন্দা বলেন, “অনেকেই হয়তো পরিবর্তন চাইছেন বা আয়ের নতুন উৎস খুঁজছেন। বর্তমান বাস্তবতায় স্বস্তিতে থাকতে অনেকেরই দুই বা তিনটি চাকরি করতে হচ্ছে। সেই দিক থেকে আমি মনে করি, এই পরিবর্তন ভালো।” মন্ট্রিলের আরেক বাসিন্দা  বলেন, চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী নয়। “অনেকে এখন চাকরি পাওয়া নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু সামগ্রিক পরিস্থিতি যদি দেখেন, এটা সাময়িক। শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের পছন্দের চাকরি খুঁজে পাবেন।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে কানাডার চাকরির বাজার আরও গতিশীল হয়ে উঠতে পারে। একদিকে যেমন দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে নিয়োগকর্তাদেরও প্রতিযোগিতামূলক বেতন ও সুবিধা দিতে চাপ বাড়বে। ফলে কর্মী ধরে রাখা এবং নতুন প্রতিভা আকর্ষণ দুটিই নিয়োগকর্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সব মিলিয়ে, নতুন বছরে কানাডার চাকরির বাজারে পরিবর্তনের হাওয়া যে বেশ জোরালো, তা এই সমীক্ষাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।

Related Articles

Back to top button