
গত বসন্তে কানাডার আদিবাসী সেবা বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ম্যান্ডি গাল-মাস্তিকে ঘিরে একটি প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছে কেন একজন ক্রি নারী এমন একটি দপ্তরের দায়িত্ব নিতে চান, যার মূল কাঠামো এখনও বিতর্কিত ইন্ডিয়ান অ্যাক্টের ওপর দাঁড়িয়ে? বিশেষ করে যখন এর আগে আরেকজন ফার্স্ট নেশন নারী এই দায়িত্ব পালনে স্পষ্টভাবে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন।
গত এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মে মাসে প্রধানমন্ত্রী তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করেন। দায়িত্ব গ্রহণের সময়ই বিষয়টি যে সহজ হবে না, তা জানতেন গাল-মাস্তি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি ঝুঁকিটা নিতে চেয়েছিলাম।” তবে একই সঙ্গে রাজনৈতিক মহল ও আদিবাসী সমাজের একাংশের অভিযোগ ছিল সরকার যেন শুরু থেকেই তাকে ব্যর্থ হওয়ার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে।
তবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই গাল-মাস্তি ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করতে শুরু করেন। যেসব মানুষ ও সংগঠনের পাশে থেকে তিনি একসময় কাজ করেছিলেন, তারাই এখন তাকে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে সুপেয় পানির সংকট, আবাসন সমস্যা এবং আদিবাসী শিশু কল্যাণ (চাইল্ড ওয়েলফেয়ার) সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা ফাইলগুলো এগিয়ে নিতে সহায়তা পেয়েছেন তিনি।
ডাউনটাউন অটোয়ায় নিজের দপ্তর থেকে গাল-মাস্তি বলেন, “এই দায়িত্ব আমাকে আরও অনেক কিছু শেখার সুযোগ দিয়েছে। এটা আমার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। একই সঙ্গে আমাকে আমার নিজের পথে ফিরে যেতে হয়েছে।” তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। “দিনের মাঝামাঝি এসে আমি বলতে পারি আমি কাজ শুরু করেছি। আজ মানুষ চায় আমি সফল হই, তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে চায়। এজন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।”
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই নিয়োগ ঐতিহাসিক। লিবারেল প্রধানমন্ত্রীর অধীনে এটি দ্বিতীয়বার, যখন কোনো ফার্স্ট নেশন নারীকে আদিবাসী সেবা বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলো। তবে বাস্তবে দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে গাল-মাস্তিই প্রথম ফার্স্ট নেশন নারী, যিনি এই চেয়ারে বসেছেন।
এর আগে সাবেক মন্ত্রী জোডি উইলসন-রেবোল্ড এই দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তখনকার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো তাকে আদিবাসী সেবা মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু সে সময় একাধিক আদিবাসী নেতা প্রকাশ্যে বলেন, ট্রুডোর সেই প্রস্তাব যথাযথ ছিল না এবং তা আদিবাসী সমাজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এই প্রেক্ষাপটে ম্যান্ডি গাল-মাস্তির দায়িত্ব গ্রহণ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদিবাসী রাজনীতির ভেতরে এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বটে। ইন্ডিয়ান অ্যাক্টের মতো বিতর্কিত কাঠামোর ভেতরে থেকে আদিবাসী জনগণের মৌলিক চাহিদা পানি, বাসস্থান ও শিশু সুরক্ষা কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেটাই এখন তার কাজের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হয়ে উঠছে।



