মি. ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্স বিজয়ী প্রথম কানাডিয়ান লরিন

দিদার হোসেন

সৌন্দর্যের সঙ্গে মাধুর্যের অনন্য মেলবন্ধন এই দুই গুণেই আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে নজির গড়লেন ফিলিপ লরিন।

সৌন্দর্যের সঙ্গে মাধুর্যের অনন্য মেলবন্ধন এই দুই গুণেই আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে নজির গড়লেন ফিলিপ লরিন। ‘মিস্টার ইউনিভার্স ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিযোগিতায় মি. ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্স ২০২৫ খেতাব জিতে নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি এই প্রতিযোগিতায় কানাডার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা প্রথম ব্যক্তি এবং প্রকাশ্যে নিজেকে স্নায়ুবিক বৈচিত্র্যপূর্ণ বলে ঘোষণা করা প্রথম খেতাবজয়ী প্রতিযোগী।

বিশ্বের ৪০ জনেরও বেশি প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে এই সম্মান অর্জন করেছেন ফিলিপ লরিন। তাঁর এই সাফল্য শুধুমাত্র একটি খেতাব জয়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তাও বহন করছে।

এক সাক্ষাৎকারে লরিন জানান, ছোটবেলা থেকেই বৈশ্বিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। তিনি বলেন, “আমি ছোট থেকেই আমার দাদীর সঙ্গে বসে মিস ইউনিভার্স, মিস ওয়ার্ল্ড, মিস ইউএসএ, মিস টিন ইউএসএ, মিস ভেনেজুয়েলা, মিস ফ্রান্স এই সব প্রতিযোগিতা দেখতাম। বৈশ্বিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে ওঠা ছিল আমার সারা জীবনের স্বপ্ন। সুযোগ যখন এসেছে, তখন আমি সেটিকে হাতছাড়া করিনি।”

নিজের জয় প্রসঙ্গে আবেগাপ্লুত লরিন জানান, প্রতিযোগিতার মঞ্চে সহ-প্রতিযোগীরা তাঁকে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। “আমার জয় নিয়ে সবাই সত্যিই খুশি ছিল। সেই মুহূর্তে আমি আবেগে ভেসে গিয়েছিলাম। কিন্তু এই অর্জনের অর্থ আমার কাছে আরও অনেক গভীর,” বলেন তিনি।

লরিন আরও বলেন, “এটি কেবল মিস্টার ইউনিভার্স ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় কানাডার প্রতিনিধিত্ব করার সম্মান নয়। আমি গর্বিত যে, একজন স্নায়ুবিক বৈচিত্র্যপূর্ণ মানুষ হিসেবে আমি এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে পেরেছি।”

এ বছর আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে সামাজিক কুসংস্কার ভাঙার ক্ষেত্রে লরিন একমাত্র নন। তাঁর সঙ্গে একই কাতারে নাম লিখিয়েছেন মেক্সিকোর ফাতিমা বোশে, যিনি সম্প্রতি মিস ইউনিভার্স খেতাব জিতেছেন। ফাতিমা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি ডিসলেক্সিয়া ও এডিএইচডি নিয়ে বসবাস করছেন। নিজের এই পরিচয় সামনে এনে তিনিও স্নায়ুবিক বৈচিত্র্য নিয়ে সমাজে প্রচলিত নানা ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কার ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ফিলিপ লরিন ও ফাতিমা বোশের এই সাফল্য প্রমাণ করে, সৌন্দর্য কেবল বাহ্যিক নয় আত্মবিশ্বাস, সাহস এবং নিজের পরিচয়কে গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করার মধ্যেই প্রকৃত সৌন্দর্যের প্রকাশ। তাঁদের এই জয় আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে অন্তর্ভুক্তি ও বৈচিত্র্যের নতুন দিগন্ত খুলে দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Articles

Back to top button