স্বেচ্ছামৃত্যুর আগাম আবেদনের ওপর জোর

আনাস মোহাম্মদ

নিজের জন্য একটি জোড়া বিলাসবহুল জুতা কেনার পরই বুঝতে পারেন, তাঁর জীবনে হয়তো কিছু একটা গুরুতর সমস্যা শুরু হয়েছে।

নিজের জন্য একটি জোড়া বিলাসবহুল জুতা কেনার পরই বুঝতে পারেন, তাঁর জীবনে হয়তো কিছু একটা গুরুতর সমস্যা শুরু হয়েছে। জুতা জোড়া বাড়িতে এনে বেশ উৎফুল্ল ছিলেন তিন সন্তানের মা সান্দ্রা ডেমোনটিনি। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই আনন্দ বদলে যায় আতঙ্কে।

ডেমোনটিনি জানান, তিনি জুতাগুলো দেখে সন্তানদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন “এই বুটগুলো কে কিনেছে? আমি আগে কখনও এগুলো দেখিনি।” উত্তরে তাঁর সন্তানরা জানায়, বুটগুলো তিনিই কিনেছেন এবং কেনার সময় তাঁর খুব পছন্দও হয়েছিল। কিন্তু বুটে পা গলিয়ে দেওয়ার পরও কেনার মুহূর্ত বা সিদ্ধান্তের কোনও স্মৃতি তাঁর মনে আসেনি। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে ভেঙে দেয়। “আমি তখন কাঁদতে শুরু করি,” বলেন ডেমোনটিনি।

এরপরই চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরীক্ষার ফলাফলে জানা যায়, তিনি আলঝেইমারে আক্রান্ত, তাও একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে। বিষয়টি তাঁর কাছে আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে এই কারণে যে, তাঁর বাবা বহু বছর ধরে একই রোগে ভুগেছিলেন।

ঘটনাটি ২০১৮ সালের। বর্তমানে ডেমোনটিনির বয়স ৪৬ বছর। তিনি কানাডার কুইবেক প্রদেশের লিভাইস শহরে একটি অ্যাসিস্টেড-লিভিং ফ্যাসিলিটিতে বসবাস করছেন। যদিও তিনি এখনও অনেকটাই স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করেন, তবে তাঁর স্বল্পমেয়াদি স্মৃতি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। সময় ব্যবস্থাপনায় সমস্যায় পড়ছেন এবং একই কথা বারবার বলার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে তাঁর মধ্যে। ডেমোনটিনি বলেন, “আমি নিজে বুঝতে পারি না যে আমি বারবার একই কথা বলছি। কিন্তু যাদের সঙ্গে কথা বলি, তাদের মুখের অভিব্যক্তি দেখেই বুঝতে পারি।”

এই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েই ২০২৫ সালের শুরুর দিকে তিনি স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য আগাম আবেদন করেন। আবেদনটির বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করতে চাননি। তবে জানিয়েছেন, এর পেছনে বড় একটি কারণ তাঁর সন্তানদের মুখ ও পরিচয় মনে রাখতে না পারার ভয়। তিনি বলেন, “এটা খুব দীর্ঘ এবং কঠিন একটি প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক ভাবনা, অনেক কান্না আর প্রচণ্ড ভয়।”

উল্লেখ্য, কানাডার ‘মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডাইয়িং’ আইনে সাধারণভাবে আগাম অনুরোধের সুযোগ নেই। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে, রোগী যখন এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা রাখেন, তখন লিখিত আবেদন করার সুযোগ থাকে। উদ্দেশ্য একটাই রোগীর সম্মতি দেওয়ার ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে যাওয়ার আগেই তার ইচ্ছাকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া।

সান্দ্রা ডেমোনটিনির গল্প শুধুই একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়; এটি প্রাথমিক বয়সে আলঝেইমারে আক্রান্ত মানুষের মানসিক যন্ত্রণা, ভয় এবং সিদ্ধান্তের জটিল বাস্তবতার একটি জীবন্ত উদাহরণ।

Related Articles

Back to top button