পর্যটনের জন্য ২০২৬ সালকে স্মরণীয় বছর হিসেবে দেখছে ডেস্টিনেশন কানাডা

মাহবুবুল আলম

পর্যটন খাত ২০২৬ সালে দেশের বৃহত্তর অর্থনীতির তুলনায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ডেস্টিনেশন কানাডা

কানাডার পর্যটন খাত ২০২৬ সালে দেশের বৃহত্তর অর্থনীতির তুলনায় দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ডেস্টিনেশন কানাডা। পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচার ও বিকাশের দায়িত্বে থাকা এই ক্রাউন কর্পোরেশন চলতি বছরকে “স্মরণীয়” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক পর্যটন ব্যয় ২০২৬ সালে প্রায় ২.১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে, যার একটি বড় অংশ আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে কানাডা। এটি কানাডার জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ চাহিদা পুনরুদ্ধারের ধারা বজায় রয়েছে।

ডেস্টিনেশন কানাডার বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের শেষে পর্যটন খাতের রাজস্ব প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১৪ হাজার ৯০ কোটি ডলারে। দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আরও আশাব্যঞ্জক চিত্র উঠে এসেছে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই খাতের মোট আয় ২১ হাজার ৬৩০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৬৭ শতাংশ বেশি।

এই প্রবৃদ্ধি শুধুমাত্র রাজস্বেই সীমাবদ্ধ নয়; কর্মসংস্থানেও এর বড় প্রভাব রয়েছে। বর্তমানে কানাডায় প্রতি ১০টি চাকরির মধ্যে একটি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি, এই খাত থেকে মিউনিসিপাল, প্রাদেশিক এবং ফেডারেল সরকারের কর রাজস্ব হিসেবে বছরে প্রায় ৩ হাজার ২৭০ কোটি ডলার আসে।

ডেস্টিনেশন কানাডার মতে, দেশের সেবা রপ্তানির মধ্যে পর্যটন এখন শীর্ষস্থান দখল করে আছে। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ব্যয় সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। এই সাফল্যের পেছনে কানাডিয়ানদের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ প্রবণতা বৃদ্ধিকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশীয় পর্যটনের চাহিদা বৃদ্ধি স্থানীয় ব্যবসা, হোটেল, পরিবহন এবং সেবা খাতকে চাঙ্গা করছে।

অন্যদিকে, স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ২০ লাখ কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২.৫ শতাংশ কম। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি টানা ১৪ মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসা কানাডিয়ানদের সংখ্যা কমার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করছে। তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় ভ্রমণ বেড়েছে ৫.৯ শতাংশ। আরও উল্লেখযোগ্যভাবে, অন্যান্য দেশ থেকে কানাডায় আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে ৭.৫ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক পর্যটনের পুনরুজ্জীবনের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

২০২৬ সালে কানাডার পর্যটন খাত শুধু পুনরুদ্ধারই নয়, বরং নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর পথে রয়েছে। বৈশ্বিক পর্যটন বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক আগমন বৃদ্ধির সমন্বয়ে এই খাত ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

Related Articles

Back to top button