
কানাডার ফেডারেল কর্মক্ষেত্রে সাম্প্রতিক উপস্থিতি নীতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি গ্রীষ্ম থেকে সপ্তাহে চারদিন অফিসে উপস্থিত থাকার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তা এই বিভাগের অধিকাংশ কর্মীর ক্ষেত্রে আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। মূলত অফিসে পর্যাপ্ত স্থান সংকটের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এ বছরের শুরুতে ট্রেজারি বোর্ড ঘোষণা দেয় যে, ৪ মে থেকে ফেডারেল সরকারের নির্বাহী কর্মকর্তাদের সপ্তাহে পাঁচদিন অফিসে উপস্থিত থেকে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি, অন্যান্য ফেডারেল কর্মীদের জন্য ৬ জুলাই থেকে সপ্তাহে চারদিন অফিসে কাজ করার বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়। এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল মহামারী-পরবর্তী সময়ে কর্মক্ষেত্রে সরাসরি উপস্থিতি বাড়ানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর করা।
তবে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা জানায়, তারা বর্তমানে একটি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও পুনর্গঠন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের ফলে অফিস স্পেসের প্রাপ্যতা সাময়িকভাবে কমে যাবে। ফলে সব কর্মীর জন্য একসঙ্গে সপ্তাহে চারদিন অফিসে উপস্থিত থাকা বাস্তবসম্মত নয়। এই পরিস্থিতিতে বিভাগটি একটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রথম পর্যায়ে কিছু ব্যবস্থাপক ও উপপরিচালকদের দিয়ে সপ্তাহে চারদিন অফিস উপস্থিতির নিয়ম চালু করা হবে। জুলাই মাস থেকে এই ধাপ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়নসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধিকাংশ কর্মীর জন্য আপাতত সপ্তাহে তিনদিন অফিসে উপস্থিত থাকার নিয়ম বজায় থাকবে। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় নির্দেশনার তুলনায় এখানে কিছুটা নমনীয়তা রাখা হয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিভাগটির সব নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ৪ মে থেকেই সপ্তাহে পাঁচদিন অফিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি।
এই সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট যে, ফেডারেল সরকারের অভিন্ন নীতির পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগ নিজস্ব বাস্তবতা অনুযায়ী তা প্রয়োগ করছে। গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। এই ধরনের নমনীয়তা কর্মীদের কাজের পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন হাইব্রিড কর্মব্যবস্থা এখনো অনেকের কাছে কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সরকার কীভাবে একীভূত উপস্থিতি নীতি বাস্তবায়ন করবে, তা এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।
গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার এই সিদ্ধান্ত ফেডারেল কর্মসংস্কৃতিতে একটি বাস্তবধর্মী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। কেন্দ্রীয় নীতির প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেও কীভাবে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সমন্বয় করা যায় এই উদাহরণ তা স্পষ্ট করে।



