প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগে মনোযোগ অন্টারিওর অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রীর

লিয়াকত আলী

অন্টারিওর অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী ভিক ফিডেলি গত এক বছরে বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশ সফর করেছেন

২০২৫ সালটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের অস্থিরতা ও ওলটপালটের বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে উঠেছে। আমেরিকা-কেন্দ্রিক নীতিগত পরিবর্তন ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার রেশ এখনো কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে কানাডার অন্টারিও প্রদেশ নতুন অর্থনৈতিক পথের সন্ধানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

এই লক্ষ্যেই অন্টারিওর অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী ভিক ফিডেলি গত এক বছরে বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশ সফর করেছেন। এসব সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা এবং নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। একই সঙ্গে আগামী বছর ও পরবর্তী সময়ের জন্য কোন খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায়, সে বিষয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়াও ছিল এই সফরগুলোর অন্যতম লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ভিক ফিডেলি বলেন, “আমেরিকাসৃষ্ট এই বৈশ্বিক বিশৃঙ্খলার এখনো অবসান হয়নি। ঠিক এই সময়ে শুধু অন্টারিও নয়, পুরো বিশ্বই প্রতিদিনের চাপ ও অনিশ্চয়তা থেকে নিজেদের দূরে রাখার পথ খুঁজছে।” তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে সারাবিশ্বের মূল থিম একটাই আমরা কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারি।”

ভিক ফিডেলির আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব অন্টারিওতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে তাকে অন্টারিওর ‘প্রধান বিপণন কর্মকর্তা’ বলেও অভিহিত করা হয়। কারণ, প্রদেশের সম্ভাবনা বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

২০টি দেশ সফরের বিষয়ে ফিডেলি স্বীকার করেন, এই সংখ্যা অনেক বেশি। তবে তিনি জানান, এসব সফরের পেছনে যে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা ছিল, তার অনেকগুলোই এখন পরিণত অবস্থায় পৌঁছেছে। বেশ কয়েকটি চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে সেগুলো সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলমান।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ভবিষ্যতে আপনারা আমাদের একটি নির্দিষ্ট খাতে বেশি মনোযোগ দিতে দেখবেন। সেটি হলো প্রতিরক্ষা খাত।”

অন্টারিও সরকার প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি কোম্পানির নতুন উৎপাদন কার্যক্রম প্রদেশে আনার বিষয়ে আগ্রহী। পাশাপাশি অন্টারিওতে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা শিল্পের পণ্যগুলোর জন্য নতুন আন্তর্জাতিক বাজার তৈরিতেও সহায়তা করতে চায় প্রাদেশিক সরকার।

ভিক ফিডেলি জানান, এই কৌশলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও অন্টারিও নিজস্ব অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ় রাখতে পারবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বর্তমানে অনেক দেশের জন্যই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্টারিওর এই সিদ্ধান্তও সেই বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিফলন।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যে অন্টারিও নতুন অংশীদার, নতুন বাজার এবং বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পথচলা নির্ধারণে এগিয়ে যাচ্ছে যা আগামী কয়েক বছরে প্রদেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

Related Articles

Back to top button