
২০২৫ সালকে অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা, বৈশ্বিক সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয়ের বছর হিসেবে মনে করছেন অধিকাংশ কানাডিয়ান। তবে নতুন বছর ২০২৬ নিয়ে আশাবাদী মানুষের সংখ্যা এখনো সীমিত। লেজারের নতুন এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ কানাডিয়ান মনে করেন ২০২৬ সালে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
নতুন বছরের প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সাল ভালো যাবে বলে তারা আশাবাদী। তবে ৩৭ শতাংশ কানাডিয়ান মনে করেন, নতুন বছরটি খুব একটা পরিবর্তন আনবে না এবং ২০২৫ সালের মতোই কাটবে। অন্যদিকে ২২ শতাংশ উত্তরদাতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ২০২৬ সাল ২০২৫ সালের চেয়েও খারাপ হতে পারে।
১৯ থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে পরিচালিত এই সমীক্ষায় অংশ নেন এক হাজার ৫২৩ জন কানাডিয়ান। সমীক্ষার ফলাফল প্রসঙ্গে সেন্ট্রাল কানাডায় লেজারের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু এন্স দ্য কানাডিয়ান প্রেস-কে বলেন, “গত বছর যেভাবে কেটেছে, তা বিবেচনায় নিলে এই ফলাফল খুব একটা বিস্ময়কর নয়।” তাঁর মতে, টানা কয়েক বছরের বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ মানুষের ভবিষ্যৎ ভাবনাকে স্বাভাবিকভাবেই সংযত করে তুলেছে।
তবে অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মাঝেও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে সমীক্ষায়। এতে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ৮৬ শতাংশ কানাডিয়ান তাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো বলে উল্লেখ করেছেন। মাত্র ১১ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের মানসিক অবস্থা খারাপ। ভালো মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বলা এই ৮৬ শতাংশের মধ্যে ৩১ শতাংশ বলেছেন, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ‘খুবই ভালো’, আর ১৭ শতাংশ একে ‘চমৎকার’ বলে বর্ণনা করেছেন।
এই পরিসংখ্যান মহামারির সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে করা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, তখন ৭৯ শতাংশ কানাডিয়ান তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো বলে মনে করতেন, আর ১৯ শতাংশ জানিয়েছিলেন তাদের মানসিক অবস্থা খারাপ।
প্রাদেশিক পর্যায়েও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো বলে যারা মত দিয়েছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ কুইবেকের ৯১ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে আলবার্টা, যেখানে ৮৮ শতাংশ মানুষ ভালো মানসিক স্বাস্থ্যের কথা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় এই হার ৮৬ শতাংশ এবং অন্টারিওতে ৮৪ শতাংশ।
সব মিলিয়ে লেজারের এই সমীক্ষা বলছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে কানাডিয়ানদের দৃষ্টিভঙ্গি এখনো সতর্ক ও সংযত। একদিকে অর্থনৈতিক চাপ ও বৈশ্বিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত এই দুই বিপরীত বাস্তবতার মধ্য দিয়েই নতুন বছর ২০২৬-এর দিকে তাকিয়ে আছে কানাডা।



