অন্টারিওর লং-টার্ম কেয়ার হোমের সুরক্ষা উন্নত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত

মাসুদ করিম

কানাডার কুইবেকে সম্প্রতি ঘরের বাইরে পাইচারি করতে গিয়ে এক বয়স্ক নিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে লং-টার্ম কেয়ার হোমগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কানাডার কুইবেকে সম্প্রতি ঘরের বাইরে পাইচারি করতে গিয়ে এক বয়স্ক নিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে লং-টার্ম কেয়ার হোমগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই অন্টারিওতে আগের অনুরূপ ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ উঠে আসছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে জোরালো দাবি জানানো হচ্ছে।

ডিসেম্বরের শুরুতে কুইবেকের একটি লং-টার্ম কেয়ার হোম থেকে বেরিয়ে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে দুইজন প্রবীণ নিবাসীর মৃত্যু হয়। একটি বেসরকারি কেয়ার হোমের বাইরে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দেশজুড়ে লং-টার্ম কেয়ার হোমগুলোর সুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এরই মধ্যে অন্টারিও থেকেও উঠে এসেছে উদ্বেগজনক অভিজ্ঞতার কথা। একজন ভুক্তভোগী জানান অভিজ্ঞতার কথা। একদিন তিনি হাঁটতে বের হলে দেখা যায়, একটি দরজা ঠেস দিয়ে খোলা রাখা হয়েছিল। সুযোগ পেয়ে তিনি বাইরে বেরিয়ে যান।

তিনি আরো জানান, হাঁটা ছিল তার প্রো-পিতামহের সবচেয়ে বড় আনন্দ। “তিনি হাঁটতে ভালোবাসতেন। তিনি যা চাইতেন, তা শুধু হাঁটা। কিন্তু সেই কারণেই তাকে শাস্তি পেতে হলো,” বলেন তিনি। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে হেইঞ্জকে একটি তালাবদ্ধ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়, যা তাকে গভীরভাবে আতঙ্কিত করে তোলে। বর্তমানে তাকে একটি আলাদা কক্ষের তালাবদ্ধ ফ্লোরে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “যদি যথাযথ ব্যবস্থা বহাল থাকত, তাহলে এই ঘটনা সহজেই এড়ানো যেত।” তার মতে, উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো বা ‘ওয়ান্ডারিং’ অন্টারিওর লং-টার্ম কেয়ার হোমগুলোর একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে ডিমেনশিয়ায় ভোগা প্রবীণদের জন্য এটি গুরুতর ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, প্রবীণ নিবাসীদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। একদিকে যেমন তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন, অন্যদিকে তেমনি পর্যাপ্ত নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কুইবেক ও অন্টারিও দুই প্রদেশেই ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার পর মানবাধিকার সংগঠন ও পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, লং-টার্ম কেয়ার হোমগুলোর নিরাপত্তা নীতিমালা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে দরজা, নজরদারি ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তদের জন্য মানবিক কিন্তু নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এই মৃত্যুগুলো যেন কেবল পরিসংখ্যান হয়ে না থাকে এমনটাই চাইছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তাদের আশা, এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো প্রবীণকে এমন করুণ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে না।

This article was written by Masud Karim as part of the LJI

Related Articles

Back to top button