ফেডারেল সরকারি সেবা সংকোচনের ব্যাপারে ট্রেজারি বোর্ড মন্ত্রী চুপ

লিয়াকত আলী

অটোয়া আগামী পাঁচ বছরে কর্মসূচি ব্যয় ও প্রশাসনিক খরচ মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলার কমানোর পরিকল্পনা করছে।

কানাডার ফেডারেল সরকার আমলাতন্ত্র হ্রাস এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসে সময় ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে এখনো বিস্তারিত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন ট্রেজারি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট শাফকাত আলি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কর্মীবাহিনী সমন্বয় এবং রিটার্ন-টু-অফিস (আরটিও) নীতিমালা নিয়ে সরকারের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

এমন অবস্থায় হাজারো সরকারি কর্মচারীর চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, সরকার ধীরে ধীরে সরকারি সেবা সংকোচনের পথে এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক বিভাগ তাদের কর্মীদের জানিয়ে দিয়েছে যে, নতুন বছর থেকেই ছাঁটাই কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

অটোয়া আগামী পাঁচ বছরে কর্মসূচি ব্যয় ও প্রশাসনিক খরচ মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলার কমানোর পরিকল্পনা করছে। এই ব্যয় সংকোচন বাস্তবায়ন করা হবে একটি সমন্বিত ব্যয় পর্যালোচনার মাধ্যমে।

সম্প্রতি ঘোষিত ফেডারেল বাজেটে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য পরিচালন কাঠামোর পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ সেবাগুলোর একত্রীকরণ করা হবে। পাশাপাশি, কর্মীবাহিনী সমন্বয় এবং স্বাভাবিক ক্ষয় নীতিও গ্রহণ করা হবে, যাতে করে সরকারি সেবার আকার একটি টেকসই পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায়।

ঠিক কতজন সরকারি কর্মীকে চাকরি ছাড়তে হতে পারে এবং নতুন বছরে কতজন এই সংবাদ পাবেন এমন প্রশ্ন করা হলে শাফকাত আলি স্পষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, “আমি মনে করি সারা বিশ্বের মধ্যে আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সরকারি সেবা রয়েছে, এবং জনগণের জীবিকার বিষয়টি আমি গভীরভাবে বিবেচনায় রাখতে চাই।” তার এই বক্তব্যে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত মিললেও, বাস্তব পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ কমেনি।

সরকারি নথি অনুযায়ী, ফেডারেল সরকার মোটামুটি ৪০ হাজার সরকারি পদ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ফেডারেল পাবলিক সার্ভিসে মোট পদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার। এরই মধ্যে গত বছরে ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস থেকে প্রায় ১০ হাজার পদ কমানো হয়েছে। এছাড়া, আগামী দুই বছরে নির্বাহী পর্যায়ের পদ ১ হাজার কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে, আগামী তিন বছরে ব্যবস্থাপনা ও পরামর্শ খাতে ব্যয় ২০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

সরকারের এই ব্যয় সংকোচন নীতির ফলে একদিকে যেমন বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ বাড়ছে। শ্রমিক সংগঠন ও সরকারি কর্মচারী ইউনিয়নগুলো ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, ব্যাপক ছাঁটাই হলে সরকারি সেবার মান ও নাগরিকদের ওপর তার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, আমলাতন্ত্র হ্রাস ও ব্যয় সংকোচনের এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মতভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এর মানবিক প্রভাব কীভাবে সামাল দেওয়া হবে সেদিকেই এখন নজর কানাডাবাসীর।

Related Articles

Back to top button