ভল্ট হকির উত্থান

দিদার হোসেন

নিয়মিত পাঠকদের কাছে ভল্ট হকি পরিচিত একটি ভিন্নধর্মী খেলা হিসেবে।

ভ্যারাইটি ভিলেজে সাফল্যের গল্প নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যে গল্পটি সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে, সেটি হলো ভল্ট হকির উত্থান। ব্যাটারিচালিত কার্টে বসে খেলা এই বিশেষ হকির সংস্করণ শুধু খেলাধুলার গণ্ডি পেরিয়ে এখন অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এর স্বীকৃতি হিসেবেই ভল্ট হকি জায়গা করে নিয়েছে হকি হল অব ফেমে।

নিয়মিত পাঠকদের কাছে ভল্ট হকি পরিচিত একটি ভিন্নধর্মী খেলা হিসেবে। জিম ফ্লোরে ব্যাটারিচালিত কার্ট ব্যবহার করে এটি খেলা হয় পরিমার্জিত হকি ব্লেড ও ওয়াইফল বলের সাহায্যে। সাধারণ একটি জয়স্টিক দিয়েই খেলাটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এই খেলায় অংশ নিতে পারেন প্রায় সবাই। এমনকি যাদের শারীরিক নড়াচড়ার ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত, তারাও ভল্ট হকির মাধ্যমে খেলাধুলার স্বাদ নিতে পারেন।

এই খেলাটির সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ ভ্যারাইটি ভাইকিংস দলের অধিনায়ক ভাবজিত ‘ভাব’ সান্ধু। বয়স মাত্র ২১। মাত্র ১০ বছর বয়স থেকেই তিনি হাঁটতে পারেন না, এমনকি হাত তোলার ক্ষমতাও খুব সীমিত। তিনি ডাশিন মাস্কুলার ডিসট্রোফি রোগে আক্রান্ত। কিন্তু এই শারীরিক সীমাবদ্ধতাই তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। ভল্ট হকির জগতে তিনি এখন কানাডার ‘ওয়েন গ্রেটজকি’ নামে পরিচিত।

ভাব সান্ধু বলেন, “একসময় আমার জীবনে এমন একটা সময় এসেছিল, যখন মনে হতো কিছুই আর ভালো নেই। তখন ভল্ট হকিই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। সপ্তাহে একদিন এই খেলাটা খেলতাম, আর সেটাই ধীরে ধীরে আমার জীবন বদলে দিয়েছে।”

সপ্তাহে দুই দিন তিনি ভ্যারাইটি ভিলেজে কোচ এরিক সাভারের সঙ্গে অনুশীলন করেন। খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। তিনি অন্টারিও টেক ইউনিভার্সিটির তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে রয়েছে তার গভীর আগ্রহ। তবে তার নিজের ভাষায়, “এআই আমার ভবিষ্যৎ হতে পারে, কিন্তু ভল্ট হকিই আমার সবকিছু।”

ভল্ট হকির ইতিহাস তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও এর প্রভাব ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। ১৯৯০-এর দশকে স্ক্যান্ডিনেভিয়ায়, বিশেষ করে ডেনমার্কে, এই খেলাটির সূচনা হয়। তখন এটি রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতাও পায় ডেনমার্কের ক্রাউন প্রিন্স খেলাটির অর্থায়নে এগিয়ে আসেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভল্ট হকিতে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট।

উত্তর আমেরিকায় এই খেলাটিকে প্রথম গ্রহণ করে ভ্যারাইটি ভিলেজ। প্রায় সাত বছর আগে তারা ভল্ট হকির যাত্রা শুরু করে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি শারীরিক প্রতিবন্ধকতাসম্পন্ন মানুষদের কাছে আশার আলো হয়ে ওঠে।

ভল্ট হকি আজ শুধু একটি খেলা নয় এটি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্প, সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার গল্প। আর সেই গল্পের কেন্দ্রেই আছেন ভাবজিত ভাব সান্ধুর মতো যোদ্ধারা, যারা প্রমাণ করছেন ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই শেষ কথা নয়।

Related Articles

Back to top button