ইহুদিবিদ্বেষ এখন সয়ে গেছে

আনাস মোহাম্মদ

কানাডার অন্যতম বৃহৎ বই বিপণন চেইন ইন্ডিগো বুকস্টোর আবারও হামলার শিকার হয়েছে।

কানাডার অন্যতম বৃহৎ বই বিপণন চেইন ইন্ডিগো বুকস্টোর আবারও হামলার শিকার হয়েছে। টরন্টোর বে ও ব্লুর স্ট্রিট এলাকার ইন্ডিগো স্টোরে সোমবার সকালে রক্তের প্রতীক হিসেবে লাল কালি ছড়িয়ে জানালা ও সামনের দরজায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দৃশ্যটি ছিল ভয়াবহ অনেকের কাছে এটি একটি কসাইখানার সঙ্গে তুলনীয় মনে হয়েছে।

টরন্টো পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভাঙচুর সম্পন্ন হয়। ঘটনার পরপরই স্টোরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করা হয়। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে টরন্টো পুলিশের হেইট ক্রাইম ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০ ডিসেম্বরের পর এই একই স্টোরে এটি দ্বিতীয়বারের মতো একই ধরনের হামলা। আগের ঘটনার সময়ও স্টোরের বাইরের অংশে লাল রঙ ব্যবহার করে প্রতিবাদমূলক বার্তা ও প্রতীক আঁকা হয়েছিল। তবে উভয় ঘটনার ক্ষেত্রেই এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি কিংবা কারো বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ঘোষণা আসেনি।

ইন্ডিগো বুকস্টোর চেইনের মালিকানা ইহুদি পরিবারভুক্ত বলে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ইহুদি দাতব্য সংস্থা ও সামাজিক উদ্যোগে সহায়তা দিয়ে থাকে এ তথ্য প্রকাশ্যে রয়েছে। পুলিশ এবং কমিউনিটি পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই পরিচয় ও কার্যক্রমের কারণেই স্টোরটি বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এই ঘটনাকে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে দেখছেন এবং বলছেন, এটি কেবল একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ নয়, বরং একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ভীতি সৃষ্টির প্রচেষ্টা।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতা প্রকাশ্য মন্তব্য দেননি। এই নীরবতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান না থাকলে এ ধরনের অপরাধ আরও উৎসাহ পেতে পারে।

একই সঙ্গে কিছু পর্যবেক্ষক দাবি করছেন, অতীতে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সংঘটিত ঘৃণাজনিত কর্মকাণ্ডে গ্রেপ্তার হলেও বিচার ব্যবস্থার পর্যায়ে যথাযথ শাস্তি না হওয়ায় অপরাধীরা সাহস পাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে সরকার বা বিচার বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ভাঙচুর, সম্পত্তি ধ্বংস এবং ঘৃণাজনিত অপরাধ কানাডার আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইন্ডিগো স্টোরে হামলার ঘটনা আইনসম্মত কি না এ নিয়ে কোনো দ্বিধার অবকাশ নেই বলে আইনজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন। তবে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থতা আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

কমিউনিটি নেতারা সতর্ক করে বলছেন, এই প্রবণতা থামানো না গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ইতিহাসের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণার রাজনীতি ও সহিংসতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে।

টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না যাচ্ছে, ততক্ষণ এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

Related Articles

Back to top button