ভুগতে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবশ্যই প্রদেশের কাছে সাহায্য চাইতে হবে

আনাস মোহাম্মদ

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচি সীমিত করার সিদ্ধান্তের পর যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ আর্থিক সক্ষমতা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, তাদেরকে নিজ নিজ প্রাদেশিক সরকারের কাছে সহায়তা চাইতে হবে এমনটাই স্পষ্ট করেছেন কানাডার অভিবাসনমন্ত্রী লেনা মেটলেগ দিয়াব

কানাডার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচি সীমিত করার সিদ্ধান্তের পর যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ আর্থিক সক্ষমতা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, তাদেরকে নিজ নিজ প্রাদেশিক সরকারের কাছে সহায়তা চাইতে হবে এমনটাই স্পষ্ট করেছেন কানাডার অভিবাসনমন্ত্রী লেনা মেটলেগ দিয়াব। শুক্রবার হ্যালিফ্যাক্স-এ এক জনসমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, মহামারি–পরবর্তী সময়ে ব্যাপক অভিবাসন গ্রহণ শ্রমিক সংকটে থাকা নিয়োগদাতাদের উপকার করলেও একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অন্যান্য সামাজিক সেবার ওপর অতিরিক্ত ও অটেকসই চাপ সৃষ্টি করেছে। এই বাস্তবতায় সরকার এখন ‘সুষম ভারসাম্য’ ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে, যার একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের শুরুতে কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়ালেও ২০২৫ সালের নভেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা খাতটিকে স্থিতিশীলতার পথে আনছি যেটার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। ২০২৬ ও ২০২৭ সালেও যাতে এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকে, সেটাই নিশ্চিত করব।” আর্থিক সংকট প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গেই কথা বলতে হবে।

আগামী বছর স্টাডি পারমিট ইস্যু নিয়েও দিকনির্দেশনা দেন মন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কানাডা সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৮ হাজার স্টাডি পারমিট দেবে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে থাকবে।

এই নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যেই কানাডাজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত দেশীয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি টিউশন ফি প্রদান করেন। ফলে তাদের সংখ্যা কমায় অনেক প্রতিষ্ঠানের আয়ে বড় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ড চলতি সপ্তাহে একাধিক ভবন বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে এর মধ্যে ইংল্যান্ডে অবস্থিত একটি ক্যাম্পাসও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।

এ বিষয়ে অভিবাসনমন্ত্রী বলেন, পোস্ট-সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনগুলোর উদ্বেগ তিনি বোঝেন। তবে উচ্চশিক্ষা খাতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া সাংবিধানিকভাবে প্রাদেশিক সরকারের দায়িত্ব। ফেডারেল সরকার এই নীতিতে পরিবর্তন আনছে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

নন-পারমানেন্ট রেসিডেন্ট (এনপিআর) সংখ্যা নিয়ন্ত্রণও সরকারের অগ্রাধিকার। মন্ত্রী জানান, মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের নিচে এনপিআর নামিয়ে আনতে চায় সরকার। এই শ্রেণির মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর শেষে কানাডায় এনপিআর ছিল মোট জনসংখ্যার ৬.৮ শতাংশ যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি।

তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। পিএইচডি ও গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের ওপর আরোপিত সীমা তুলে নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণে এই শিক্ষার্থী ও গবেষকদের প্রয়োজন আছে এটা আমরা স্বীকার করি। গ্র্যাজুয়েট ও পিএইচডি শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়েই এখানে আসে। এটি একটি ভালো শুরু।”

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচি সংকোচনের মধ্য দিয়ে কানাডা অভিবাসন ও জনসেবার ওপর চাপ কমাতে চাইলেও, এর আর্থিক অভিঘাত সামাল দেওয়ার দায়িত্ব আপাতত প্রাদেশিক সরকারগুলোর কাঁধেই থাকছে এটাই স্পষ্ট করলেন অভিবাসনমন্ত্রী।

Related Articles

Back to top button