সামাজিক যোগাযোগ ১০০ এর বেশিম শিশু নির্যাতনে টরন্টোর এক ব্যক্তির দোষ স্বীকার

জামির হোসেন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দীর্ঘ সাত বছর ধরে ভয়াবহ যৌন অপরাধ চালানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন কানাডার টরন্টো শহরের ৪০ বছর বয়সী এক বাসিন্দা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দীর্ঘ সাত বছর ধরে ভয়াবহ যৌন অপরাধ চালানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন কানাডার টরন্টো শহরের ৪০ বছর বয়সী এক বাসিন্দা। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে তিনি শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি, শিশুদের জোরপূর্বক ও প্রলোভনের মাধ্যমে যৌন কাজে যুক্ত করার একাধিক অভিযোগে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।

মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ীভাবে আত্মসমর্পণের পর গত বছরের ৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি বিচারের অপেক্ষায় কারাগারে রয়েছেন।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসন দুভা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি কাল্পনিক অনলাইন পরিচয়ের আড়ালে নিজেকে আমেরিকান কিশোর হিসেবে উপস্থাপন করতেন। এই ছদ্মবেশ ব্যবহার করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিশোরীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন এবং ধীরে ধীরে তাদের যৌন আবেদনময়ী ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করতেন। এসব অপরাধ তিনি অন্য একটি দেশে অবস্থান করেই চালিয়ে গেছেন।

মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে, তিনি অন্তত ১০০ জনের বেশি কিশোরীকে এইভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার করেছেন। ভুক্তভোগীদের বয়স ছিল ১১ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা।

বিভাগটি আরও জানায়, কানাডায় গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও ২০২২ সালের অক্টোবরে কানাডার আদালতে একই ধরনের অপরাধে দোষ স্বীকার করেছিলেন। সে সময় তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বর্তমান মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের আইনে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ২৫ বছর বাধ্যতামূলকভাবে কারাগারে কাটাতে হবে। পাশাপাশি বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানারও সম্ভাবনা রয়েছে।

মার্কিন আদালত সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৭ মে তার সাজা ঘোষণা করা হবে। এই মামলাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

Related Articles

Back to top button