যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা না পাওয়া প্রযুক্তিকর্মীদের টানতে চান কার্নি

মুসা বিশ্বাস

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভিসার ওপর নতুন মাশুল ধার্য্যরে আগে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করেছেন, প্রযুক্তি খাতের একম কর্মীদের আকৃষ্ট করতে চান কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ–১বি ভিসার ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে বিপুল মাশুল ধার্যের ঘোষণার পর প্রযুক্তিখাতের দক্ষ কর্মীদের আকৃষ্ট করতে উদ্যোগী হয়েছে কানাডা। শনিবার লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ও পূর্বে এইচ–১বি ভিসাধারী পেশাজীবীদের জন্য কানাডায় নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

কার্নির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা এবং প্রশাসনিক জটিলতা অনেক দক্ষ কর্মীকে বিকল্প গন্তব্য খুঁজতে বাধ্য করছে। “এই মুহূর্তে আমরা একটি অনন্য সুযোগ পাচ্ছি,” বলেন কার্নি। “দক্ষ প্রযুক্তিপেশাজীবীদের জন্য কানাডা সবসময়ই উন্মুক্ত। এখন তাদের জন্য আরও সরাসরি ও আকর্ষণীয় প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।”

গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে এইচ–১বি ভিসার নতুন আবেদন ফিতে ১ লাখ ডলার মাশুল ধার্য করেন যা যুক্তরাষ্ট্রে বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি ও অন্যান্য উচ্চ দক্ষতার পেশায় বৈশ্বিক মেধা আকৃষ্ট করতে এই ভিসা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু আকস্মিকভাবে এত বেশি মাশুল আরোপ করায় কোম্পানিগুলো এখন হতাশ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মত, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি আরও প্রকট হতে পারে।

মার্ক কার্নি জানান, কানাডা তাদের অভিবাসন নীতি নতুন করে পর্যালোচনা করছে। লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিমনস্ক ও অভিজ্ঞ কর্মীদের আরও সহজে কানাডায় আনতে প্রশাসনিক বাধা কমানো এবং আকর্ষণীয় ভিসা কর্মসূচি চালু করা।

তিনি বলেন, “আমরা চাই, যারা আগে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করেছেন এবং দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন, তারা যেন কানাডাকে তাদের নতুন পেশাগত ঠিকানা হিসেবে বিবেচনা করেন। তাদের আমরা সরাসরি ও স্পষ্ট সুবিধাসহ আমন্ত্রণ জানাব।”

কানাডা ইতোমধ্যেই দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়ার ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট স্ট্রিম’ এবং স্থায়ী বসবাসের জন্য ‘এক্সপ্রেস এন্ট্রি’ এই দুটি কঠোরতাহীন পদ্ধতির মাধ্যমে প্রযুক্তিখাতের কর্মীদের আকর্ষণ করছে।

এই পরিস্থিতিতে কানাডা একা নয়; ইউরোপের শক্তিধর অর্থনীতি জার্মানি ও যুক্তরাজ্যও দক্ষ কর্মীদের নতুন গন্তব্য হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছে।

বিশেষত জার্মানি সম্প্রতি আইটি ও ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাজীবীদের জন্য তার ‘স্কিলড মাইগ্রেশন অ্যাক্ট’ আরও সহজ করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ব্রেক্সিট পরবর্তী নতুন ভিসা ব্যবস্থা দিয়ে আন্তর্জাতিক মেধাকে টানতে চাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির পরিবর্তন বৈশ্বিক প্রযুক্তি কর্মীদের অভিবাসন বাজারে সামগ্রিক শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।

বিশ্ব প্রযুক্তি শিল্পে দক্ষ কর্মীদের চাহিদা দিনদিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ মাশুল ও কড়াকড়ির সুযোগে কানাডা এবং ইউরোপের দেশগুলো নিজেদেরকে বিকল্প “নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সুযোগসমৃদ্ধ” গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

চলমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে আগামী বছরগুলোতে প্রযুক্তিখাতের বৈশ্বিক অভিবাসন মানচিত্রে বড় পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যেতে পারে।

Related Articles

Back to top button