শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগের পক্ষে অন্টারিওর সিংহভাগ মানুষ

আলী আহমেদ

অন্টারিওর শ্রমমন্ত্রী ডেভিড পিচ্চিনিকে পদত্যাগ করানো অথবা তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো হয়ে উঠছে।

অন্টারিওর শ্রমমন্ত্রী ডেভিড পিচ্চিনিকে পদত্যাগ করানো অথবা তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো হয়ে উঠছে। প্রদেশের ২৫০ কোটি ডলারের দক্ষতা উন্নয়ন তহবিল (Skills Development Fund) নিয়ে অব্যাহত প্রশ্ন ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে অন্টারিওবাসীর সিংহভাগই এই অবস্থান নিয়েছেন। এমনটাই উঠে এসেছে অ্যাবাকাস ডেটা পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জনমত সমীক্ষায়।

সমীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় সেই একই দিনে, যেদিন অন্টারিওর বিরোধীদল লিবারেল পার্টি প্রাদেশিক আইনসভার এথিকস ওয়াচডগের কাছে শ্রমমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। লিবারেলদের অভিযোগ সরকার-সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও রাজনৈতিক সমর্থকদের উদ্দেশে অনুদান পৌঁছে দিতে পিচ্চিনি তার পদমর্যাদা ব্যবহার করেছেন, যা নির্বাচিত প্রতিনিধির নীতি-নৈতিকতার সরাসরি লঙ্ঘন।

অন্টারিও লিবারেল এমপিপি স্টেফানি স্মিথ বলেন, “যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তা এক অত্যন্ত করুণ ও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। একজন মন্ত্রীর ওপর অর্পিত সরকারি ক্ষমতা তিনি ব্যক্তিগত যোগাযোগকে সুবিধা দিতে ব্যবহার করছেন।”

মূল অভিযোগের কেন্দ্রে আছে কিল ডিজিটাল সল্যুশনস নামে একটি কোম্পানি। কোম্পানিটির পরিচালক এক ইভেন্টে রিং-সাইড আসনে বসে থাকা শ্রমমন্ত্রীর একটি ছবি এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। উল্লেখ্য, একই কোম্পানি দক্ষতা উন্নয়ন তহবিল থেকে বড় অঙ্কের অনুদান পেয়েছে।

শুধু তাই নয় ওই কোম্পানির এক লবিস্টের বিয়ের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন পিচ্চিনি। সম্প্রতি নিউজটক ১০১০–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে কোম্পানিটি যেন অনুদান পায়, তা নিশ্চিত করতে তিনি “হস্তক্ষেপ” করেছিলেন।

তথ্য-প্রমাণ হিসেবে আরও একটি ছবি সামনে এসেছে, যেখানে পিচ্চিনিকে দেখা যাচ্ছে প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের ক্যাম্পেইন ম্যানেজার কোরি টেনেকের সঙ্গে। বর্তমানে টেনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লবিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। সিটিভি নিউজের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠান প্রায় ৮ কোটি ২০ লাখ ডলার অনুদান পেয়েছে।

অ্যাবাকাস ডেটা সিইউপি (Canadian Union of Public Employees–CUPE)-এর জন্য যে সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছে, সেখানে অংশ নেন অন্টারিওতে বসবাসকারী দুই হাজার কানাডিয়ান। সমীক্ষার মূল ফলাফল অনুযায়ী ৫১% উত্তরদাতা মনে করেন, মন্ত্রী পিচ্চিনির উচিত নিজে পদত্যাগ করা অথবা তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া। ২৮% মনে করেন, তার দায়িত্বে থাকা অব্যাহত থাকতেই পারে। ২২% এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।

দ্বিতীয় এক প্রশ্নে উঠে আসে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ধারণা, ৪৬% মনে করেন, এটি কেবল একজন মন্ত্রীর বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; বরং ফোর্ড সরকারের নিয়মনীতি ও অনুদান বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত একটি বৃহত্তর সমস্যা। ২৩% মনে করেন, এটি শুধুই পিচ্চিনির ব্যক্তিগত সমস্যা। ৯% একে কোনো ধরনের ‘অব্যবস্থাপনা’ বলে মনে করেন না। ২২% আবার নিশ্চিত নন।

প্রতিদিন নতুন তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন তহবিল বরাদ্দকে ঘিরে বিতর্ক আরও জটিল ও রাজনৈতিকভাবে গুরুতর আকার নিচ্ছে। মন্ত্রীর ‘হস্তক্ষেপ’, লবিস্টদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, এবং সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলে বড় অঙ্কের অনুদান বরাদ্দ এ সবকিছু একত্র হয়ে ফোর্ড সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে তুলেছে।

এখন প্রশ্ন বর্ধমান জনমত ও রাজনৈতিক চাপের মুখে শ্রমমন্ত্রী পিচ্চিনির অবস্থান কতদিন অটল থাকবে? এবং প্রাদেশিক সরকার এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবে?

গণমাধ্যম, বিরোধী দল ও জনসাধারণের তীক্ষ্ণ নজর এখন এই ইস্যুতেই।

Related Articles

Back to top button