আইপিভি খাতের সংগঠনগুলোর জন্য টেকসই তহবিলের দাবি

জুমু চৌধুরী

YRCCS জানায়, ২০১৩ সাল থেকে তারা পরামর্শ, জরুরি আবাসন ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান সহায়তা এবং আইনি পরামর্শসহ IPV–এ ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের জন্য সমন্বিত সহায়তা প্রদান করে আসছে।

মারখামভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইয়র্ক রিজিয়ন সেন্টার ফর কমিউনিটি সেফটি (YRCCS) ইন্টিমেট পার্টনার ভায়োলেন্স (IPV)–এর শিকার ব্যক্তিদের সহায়তায় কাজ করা সংস্থাগুলোর জন্য টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি তহবিল নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, জীবন-পরিবর্তনকারী সেবাগুলো অব্যাহত রাখতে সরকারী ও বেসরকারি উভয় খাত থেকেই স্থিতিশীল আর্থিক প্রতিশ্রুতি এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

YRCCS জানায়, ২০১৩ সাল থেকে তারা পরামর্শ, জরুরি আবাসন ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান সহায়তা এবং আইনি পরামর্শসহ IPV–এ ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের জন্য সমন্বিত সহায়তা প্রদান করে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের ওপর চাপ অভূতপূর্বভাবে বেড়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী মহামারি-পূর্ববর্তী সময়ে যেখানে তাদের সেবাগ্রহীতার সংখ্যা ছিল প্রায় ১,০০০, মহামারি পরবর্তীতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,০০০–এ, অর্থাৎ দ্বিগুণ।

সেবার চাহিদা এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সীমিত অর্থায়নের কারণে YRCCS–কে অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তারা দেখছে তহবিল সংকটকে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রকল্পভিত্তিক তহবিল চলতি বছরে ৩৫% কমে গেছে, এবং ২০২৬ সালে তা নেমে দাঁড়াবে মাত্র ৬%–এ।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই তারা নতুন একটি উদ্যোগ “ইনভেস্ট হোপ” ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। ক্যাম্পেইনে ভিডিও এবং তথ্যচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে তাদের বর্তমান সংকট, সেবা সম্প্রসারণের প্রয়োজন এবং IPV–এ আক্রান্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা কেন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

YRCCS–এর সহায়তাপ্রাপ্ত একজন নারী, অরোরা, নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন “যখন তার সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল, তিনি অত্যন্ত ভদ্র আর সদয় ছিলেন। কিন্তু বিয়ের পরই তার ভেতরের রুক্ষ আচরণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। নানা অজুহাতে রাগ দেখাতেন। আমি অনেকবার ক্ষমা করেছি। কিন্তু গর্ভবতী হওয়ার পর পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।” অরোরার মতো আরও শত শত নারী প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে সহায়তা চান যাদের অধিকাংশই মানসিক, শারীরিক এবং আর্থিক নির্যাতনের শিকার।

অন্টারিওর চিলড্রেন অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিসেস মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা IPV–বিষয়ক সহায়তামূলক সংগঠনগুলোকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে ২০২৫ সাল থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে মোট ১৫টি সংস্থা, প্রতিটিকে ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার করে সহায়তা দেওয়া হবে, YRCCS এ সহায়তা পাওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি।

তবে প্রতিষ্ঠানটির মতে, বাড়তে থাকা সেবাচাহিদার তুলনায় এই অর্থায়ন পর্যাপ্ত নয়। তাদের আশা সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি খাত, দাতব্য সংগঠন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে একটি টেকসই তহবিল কাঠামো তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, IPV–বিষয়ক সেবা শুধু আশ্রয় বা আইনি সহায়তা নয় একজন ভুক্তভোগীর সম্পূর্ণ জীবন পুনর্গঠনের একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তাই, প্রকল্পভিত্তিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিশ্চয়তা ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য তাদের ‘জীবনরক্ষামূলক মিশন’ অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

মারখামে এখন প্রশ্ন একটাই ইন্টিমেট পার্টনার ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে লড়াই কি একই শক্তিতে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে? নাকি তহবিল সংকটের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হবে?

YRCCS ও অন্যান্য সংস্থা সেই উত্তর খুঁজতেই তহবিল বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে।

Related Articles

Back to top button