সাময়িক ভিসাধারীদের দেশ ত্যাগের রেকর্ড রাখতে চান অভিবাসনমন্ত্রী

মুসা বিশ্বাস

কানাডায় সাময়িক ভিসাধারীদের দেশত্যাগের তথ্য সংরক্ষণে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিবাসনমন্ত্রী লেনা দিয়াব

কানাডায় সাময়িক ভিসাধারীদের দেশত্যাগের তথ্য সংরক্ষণে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিবাসনমন্ত্রী লেনা দিয়াব। তিনি জানিয়েছেন, তার মন্ত্রণালয় এমন একটি ডিজিটাল সক্ষমতা গড়ে তুলতে চায়, যাতে সাময়িক ভিসায় প্রবেশ করা ব্যক্তিদের মধ্যে ঠিক কতজন কানাডা ছাড়ছেন তার নির্ভুল রেকর্ড রাখা যায়। অভিবাসন বিভাগ বলছে, চলতি বছরে প্রায় ১৯ লাখ অস্থায়ী ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২১ লাখেরও বেশি। এসব ভিসার মধ্যে ওয়ার্ক পারমিট ও স্টাডি পারমিটও রয়েছে।

দিয়াব বলেন, কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি এবং ইমিগ্রেশন, রিফিউজিজ অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা বর্তমানে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্পর্কে কিছু তথ্য সংরক্ষণ করতে পারলেও, সামগ্রিকভাবে সাময়িক ভিসায় আসা কতজন মানুষ নির্ধারিত সময় শেষে কানাডা ছাড়ছেন এমন পূর্ণাঙ্গ হিসাব রাখার সহজ কোনো ব্যবস্থা নেই। ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে এই ঘাটতি পূরণ করাই তার লক্ষ্য।

এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বহু দেশই নাগরিক ও অস্থায়ী ভিসাধারীদের প্রস্থান-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে। “আমাদেরও সেটা করা উচিত আমি তা বিশ্বাস করি। আগে কি আমাদের এই সক্ষমতা ছিল? না। থাকা কি উচিত ছিল? আমার মনে হয়, হ্যাঁ। আর সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি,” বলেন দিয়াব।

এদিকে, হাউজ অব কমন্স-এ ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে সিবিএসএর ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যারন ম্যাকক্রোরি জানান, সংস্থাটি বর্তমানে কে কানাডা ছাড়ছেন, কোন পরিবহন ব্যবস্থায় যাচ্ছেন, জন্মতারিখ এবং কোন ভ্রমণ নথি ব্যবহার করছেন এসব তথ্য রাখতে পারে। তবে কেবল ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে কারা দেশ ছাড়ছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট রেকর্ড রাখার সক্ষমতা সিবিএসএর নেই। তার ভাষায়, এটি হাতে-কলমে যাচাই করা সম্ভব হলেও প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য।

এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে সাময়িক ভিসায় কানাডায় আসা ব্যক্তিদের মধ্য থেকে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কনজার্ভেটিভ দলের অভিবাসন বিষয়ক সমালোচক মিশেল রেম্পেল গার্নার-এর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সরকার জানায়, ২০২৪ সালে অস্থায়ী রেসিডেন্ট পারমিট ভিসায় আসা প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার এবং স্টাডি পারমিট ভিসায় আসা প্রায় ২২ হাজার মানুষ আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে অস্থায়ী রেসিডেন্ট পারমিটধারীদের মাত্র ১৪ শতাংশ এবং স্টাডি পারমিটধারীদের ২০ শতাংশ আবেদন অনুমোদিত হয়।

তুলনামূলকভাবে ২০২০ সালে চিত্র ছিল ভিন্ন। সে বছর অস্থায়ী রেসিডেন্ট ভিসায় আসা প্রায় ৬ হাজার ৬০০ এবং স্টাডি ভিসায় আসা প্রায় ১ হাজার ১০০ জন আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন, যার বড় একটি অংশই তখন অনুমোদন পেয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সাময়িক ভিসাধারীদের প্রস্থান সংক্রান্ত নির্ভুল ডেটা না থাকায় অভিবাসন পরিকল্পনা, আশ্রয় ব্যবস্থাপনা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জটিল হয়ে পড়ছে। সরকারের প্রস্তাবিত ডিজিটাল উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, ভবিষ্যতে কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button