কনজার্ভেটিভ নেতা হিসেবে পয়লিয়েভারের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ টোরি প্রতিনিধির ভোট

মুসা বিশ্বাস

লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য কোরি হোগান, তালিব নূর মোহাম্মদ এবং রাচেল বেন্দায়ান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, কনজার্ভেটিভ প্রতিনিধিদের এই সিদ্ধান্ত কানাডার রাজনীতিকে আরও বিভাজনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে

কানাডার রাজনীতিতে কনজার্ভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব ঘিরে চলমান জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দলটির নেতা হিসেবে পিয়েরে পয়লিয়েভর-এর অবস্থান বহাল রেখেছেন দলের প্রতিনিধিরা। বাধ্যতামূলক নেতৃত্ব পর্যালোচনায় বিপুল সমর্থন পেয়ে তিনি আবারও দলীয় নেতৃত্বে নিজের কর্তৃত্ব দৃঢ় করেছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের পরপরই লিবারেল পার্টির একাধিক শীর্ষ নেতা কড়া ভাষায় এর সমালোচনা করেছেন।

আলবার্টার ক্যালগেরিতে অনুষ্ঠিত কনজার্ভেটিভ পার্টির তিন দিনব্যাপী নীতিনির্ধারণী জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিনে, শুক্রবার এই নেতৃত্ব পর্যালোচনার ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ভোটের ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ পেয়ে ৪৬ বছর বয়সী পয়লিয়েভর নেতৃত্বে থাকার অনুমোদন পান। ফলাফল ঘোষণার পর সম্মেলনস্থলে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শিবিরে তৈরি হয় ভিন্ন প্রতিক্রিয়া।

লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য কোরি হোগান, তালিব নূর মোহাম্মদ এবং রাচেল বেন্দায়ান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, কনজার্ভেটিভ প্রতিনিধিদের এই সিদ্ধান্ত কানাডার রাজনীতিকে আরও বিভাজনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাঁদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বিভক্তিমূলক রাজনীতির প্রতিফলন, যা কানাডীয়রা ইতোমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পয়লিয়েভর তাঁর প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক জীবনে কানাডীয়দের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেননি। বরং তাঁর রাজনীতি সীমাবদ্ধ থেকেছে ফাঁকা স্লোগান, হঠকারী অবস্থান এবং উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার মধ্যেই। লিবারেল নেতাদের ভাষায়, দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সময় পয়লিয়েভরের নেতৃত্ব কানাডার জন্য একটি “খারাপ পছন্দ”।

এদিকে সম্মেলনে দেওয়া দীর্ঘ বক্তৃতায় পয়লিয়েভর নিজেকে আশাবাদের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। প্রায় ৪৫ মিনিটের বক্তৃতাকালে তাঁর সমর্থকদের হাতে দেখা যায় ‘রিয়াল চেইঞ্জ’ ও ‘চুজ হোপ’ লেখা ব্যানার। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই সম্মেলনের মূল বার্তাই হলো আশা এবং তিনি সেই আশা ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

দলীয় প্রতিনিধিদের উদ্দেশে পয়লিয়েভর বলেন, আসন্ন ফেডারেল নির্বাচনে কনজার্ভেটিভ পার্টিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি আরেকবার সুযোগ চান। তিনি দেশের ঐক্যের ওপর জোর দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক কমানোর উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি-এর সরকারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।

তবে বক্তৃতার পুরো সময়জুড়ে একটি বিষয় বিশেষভাবে নজরে এসেছে তিনি একবারের জন্যও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নাম উচ্চারণ করেননি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কৌশলগত নীরবতা, যা কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অতিরিক্ত মার্কিন প্রভাবের অভিযোগ এড়ানোর একটি চেষ্টা হতে পারে।

কনজার্ভেটিভ শিবিরে পয়লিয়েভরের অবস্থান আপাতত নিরাপদ হলেও, তাঁর নেতৃত্ব ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক যে আরও তীব্র হবে তা এখনই স্পষ্ট।

Related Articles

Back to top button