অন্টারিওতে লবণ সংকট

মাসুদ করিম

ইতোমধ্যেই লন্ডন শহর কর্তৃপক্ষ অবশিষ্ট লবণ সংরক্ষণের জন্য তাদের শীতকালীন পরিচালন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্বের ভূগর্ভস্থ সবচেয়ে বড় লবণের খনির অবস্থান কানাডার অন্টারিও প্রদেশের গোডরিচ শহরে। অথচ এই বাস্তবতার মধ্যেই চলতি শীত মৌসুমে অন্টারিওজুড়ে তীব্র লবণ সংকটে পড়েছে একাধিক মিউনিসিপালিটি। শীতকালীন সড়ক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য এই জরুরি পণ্যের সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও ঠিকাদাররা ক্রমেই উদ্বেগের মধ্যে পড়ছেন।

ইতোমধ্যেই লন্ডন শহর কর্তৃপক্ষ অবশিষ্ট লবণ সংরক্ষণের জন্য তাদের শীতকালীন পরিচালন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। শহরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, সীমিত মজুদের কারণে লবণের ব্যবহার আরও নিয়ন্ত্রিত ও মিতব্যয়ী করা হচ্ছে, যাতে পুরো শীতজুড়ে ন্যূনতম সরবরাহ বজায় রাখা যায়।

একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে টরন্টোর পূর্বাঞ্চলের পিকারিং শহরেও। সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় লবণের গোলাগুলোর মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ফলে যেটুকু লবণ অবশিষ্ট আছে, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ ফুরিয়ে না যায়।

বেসরকারি খাতেও উদ্বেগ কম নয়। ট্রিপল জে কন্ট্রাক্টিংয়ের প্রেসিডেন্ট ডেভ গেরো সতর্ক করে বলেন, কোনো মিউনিসিপালিটির কাছে যদি মাত্র কয়েক হাজার টন লবণ মজুদ থাকে, তবে চলতি বছর তা প্রায় শেষ হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। “এখনো তো জানুয়ারির শুরু পুরো শীত এখনও বাকি,” বলে জানান তিনি।

ডেভ গেরোর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিমানবন্দর, হাসপাতাল ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাসহ একাধিক বড় প্রতিষ্ঠানে শীতকালীন সেবা দিয়ে থাকে। বর্তমানে তার অধিকাংশ সময় ব্যয় হচ্ছে নতুন লবণের উৎস খোঁজার কাজে এবং কীভাবে বিদ্যমান মজুদ আরও সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই কৌশল নির্ধারণে।

গেরো আরও জানান, যদি সামনে একটানা ব্যস্ত কোনো সপ্তাহান্ত আসে বা পরপর কয়েক দিন তীব্র তুষারঝড় হয়, তাহলে লবণের মজুদ পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অত্যন্ত বেশি। “এটা শুধু আমাদের সমস্যা নয়,” বলেন তিনি। “পুরো প্রদেশজুড়েই একই সংকট দেখা যাচ্ছে।”

তার মতে, এই পরিস্থিতি মূলত একটি “মেইড-ইন-অন্টারিও” সাপ্লাই চেইন সমস্যার ফল। “বিশ্বের সবচেয়ে বড় লবণের খনি আমাদের প্রদেশে থাকা সত্ত্বেও আমরা লবণ পাচ্ছি না এই বিষয়টি সত্যিই অদ্ভুত,” মন্তব্য করেন গেরো।

উল্লেখ্য, অন্টারিওর উইন্ডসর এবং গোডরিচে রয়েছে বড় আকারের লবণের খনি। গোডরিচের খনি থেকে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৭২ লাখ ৫০ হাজার টন লবণ উৎপাদন হয়, যদিও এর সর্বোচ্চ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৯০ লাখ টন। তবুও চলতি সপ্তাহে গোডরিচে বিশ্বের বৃহত্তম লবণের খনির বাইরে শতাধিক খালি ট্রাককে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে শুধু লবণ বোঝাইয়ের অপেক্ষায়।

বাণিজ্যিক লবণ বিতরণকারীদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, চলতি শীতে অন্টারিওতে সরবরাহ ব্যবস্থার যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা এতটাই গভীর যে এর প্রভাব আগামী বছরও অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে প্রদেশটির শীতকালীন অবকাঠামো ও সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

This article was written by Masud Karim as part of the LJI

Related Articles

Back to top button