গোলাবারুদ তৈরিতে ১৪০ কোটি ডলার বরাদ্দ

মাসুদ করিম

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিনটি এই বিনিয়োগকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক বলে উল্লেখ করেছেন

দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে এবং বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমাতে গোলাবারুদ শিল্পে ১৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা সরকার। এই উদ্যোগ মূলত ভারী আর্টিলারি শেল উৎপাদন বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নাইট্রোসেলুলোজের দেশীয় উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

ফেডারেল সরকারের এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হবে অন্টারিওর ইঙ্গারসল এবং কুইবেকের রেপেনটাইনিতে অবস্থিত উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে। এতে করে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পে একটি নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সরকারি এই তহবিল ভাগ করে দেওয়া হবে দুই প্রধান প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আইএমটি প্রিসিশন এবং জেনারেল ডাইনামিকস অর্ডন্যান্সের। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৃহৎ প্রতিরক্ষা কোম্পানি জেনারেল ডাইনামিকস-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেনারেল ডাইনামিকস অর্ডন্যান্সই সবচেয়ে বেশি অর্থ পাবে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কানাডা আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা আরও দ্রুত উন্নত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ১৫৫ মিলিমিটার আর্টিলারি শেলের উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি করা। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের গোলাবারুদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ন্যাটো মিত্রদের জন্য। এছাড়া, আর্টিলারি শেলের প্রোপেলান্ট হিসেবে ব্যবহৃত নাইট্রোসেলুলোজের দেশীয় উৎপাদন শুরু করাও এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমানে এই উপাদানের বৈশ্বিক বাজারে চিনের প্রভাব উল্লেখযোগ্য, যার ওপর ন্যাটো সদস্য দেশগুলো অনেকাংশে নির্ভরশীল। অন্যদিকে, রাশিয়ার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে বিশ্ববাজারে নাইট্রোসেলুলোজের সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়েছে। ফলে বিকল্প উৎস তৈরি করা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।

কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিনটি এই বিনিয়োগকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক বলে উল্লেখ করেছেন। ম্যাকগিনটি জানান, নিজস্ব গোলাবারুদ উৎপাদনের সক্ষমতা কোনো বিলাসিতা নয় এটি একটি প্রয়োজনীয়তা। তার মতে, এই বিনিয়োগ শুধু প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে না, বরং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং স্থানীয় শিল্পকে শক্তিশালী করবে।

দীর্ঘদিন ধরেই কানাডার প্রতিরক্ষা শিল্প এই ধরনের বিনিয়োগের অপেক্ষায় ছিল। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ চেইনের অনিশ্চয়তা এই সিদ্ধান্তকে আরও জরুরি করে তুলেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কানাডা শুধু আত্মনির্ভরতার দিকে এগোচ্ছে না, বরং ন্যাটো জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে।

কানাডার এই বিনিয়োগ কেবল একটি অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয় এটি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যা ভবিষ্যতের নিরাপত্তা, শিল্প উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অবস্থানকে প্রভাবিত করবে।

মাসুদ করিম : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

Related Articles

Back to top button