কানাডিয়ানদের ডেস্টিনেশন এখন ইউরোপ

কামরুল ইসলাম

মহামারির দীর্ঘ স্থবিরতার পর কানাডিয়ানদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

মহামারির দীর্ঘ স্থবিরতার পর কানাডিয়ানদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপের ঐতিহাসিক শহর, মনোরম সমুদ্রতট আর বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক আকর্ষণ ২০২৫ সালে কানাডিয়ান পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপ ভ্রমণ করেছেন প্রায় ২.৩ মিলিয়ন কানাডিয়ান, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। যদিও মহামারির আগের সময় অর্থাৎ ২০১৯ সালের তুলনায় এ সংখ্যা এখনও কিছুটা কম, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এই বৃদ্ধির ধারা প্রমাণ করছে যে আন্তর্জাতিক পর্যটন দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে।

কানাডিয়ান পর্যটকদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও স্পেন। এর মধ্যে শুধু ফ্রান্সেই গিয়েছেন প্রায় ৫.৫ লাখ পর্যটক, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি, যুক্তরাজ্যে গিয়েছেন প্রায় ৪.৮ লাখ, ইতালিতে ভ্রমণ করেছেন ৪.১ লাখ কানাডিয়ান আর স্পেন গিয়েছেন প্রায় ৩.২ লাখ।

এমন প্রবণতা দেখাচ্ছে যে পশ্চিম ইউরোপের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশগুলোই কানাডিয়ান ভ্রমণকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় টান তৈরি করছে।

ভ্রমণ শুধু বাড়ছে তা-ই নয়, ব্যয়ের ক্ষেত্রেও ইউরোপ এগিয়ে। একজন কানাডিয়ান পর্যটক গড়ে প্রতি ভ্রমণে ব্যয় করছেন প্রায় ৩,২০০ কানাডিয়ান ডলার। এ খরচের বড় অংশ বিমান ভাড়া, হোটেল এবং খাবারের পেছনে ব্যয় হয়। শুধু ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই কানাডিয়ানদের ইউরোপ ভ্রমণ থেকে ইউরোপীয় অর্থনীতিতে প্রবাহিত হয়েছে প্রায় ৭.৩ বিলিয়ন ডলার। ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য কানাডিয়ান পর্যটক এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডিয়ান পর্যটকদের ইউরোপমুখী হওয়ার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ কাজ করছে। যেমন –  কম খরচের ফ্লাইট – এয়ার কানাডা ও ওয়েস্টজেট সম্প্রতি একাধিক ইউরোপমুখী নতুন রুট চালু করেছে, সহজতর ভিসা নীতি – ইউরোপীয় দেশগুলো এখন ভিসা প্রক্রিয়ায় আগের তুলনায় বেশি নমনীয় এবং সাংস্কৃতিক আকর্ষণ – ঐতিহাসিক নিদর্শন, বিশ্বখ্যাত খাবার, শিল্প ও সংস্কৃতির রঙিনতা পর্যটকদের টানছে।

এই প্রবণতায় তরুণ প্রজন্মের অবদান সবচেয়ে বেশি। তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী পর্যটকরাই মোট ইউরোপগামী কানাডিয়ান ভ্রমণকারীর প্রায় ৪৫ শতাংশ। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে তারা ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনকে বেছে নিচ্ছেন। এদের অনেকেই ভ্রমণকে শুধু বিনোদন নয়, বরং সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবেও দেখছেন।

মহামারির পর কানাডিয়ান ভ্রমণ মানচিত্রে ইউরোপই এখন শীর্ষে অবস্থান করছে। ঐতিহাসিক শহরের মোহনীয়তা, খাবারের বৈচিত্র্য, সংস্কৃতির উজ্জ্বল রঙ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ইউরোপকে কানাডিয়ানদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে মহামারির আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে কানাডিয়ানদের ইউরোপ ভ্রমণ।

Related Articles

Back to top button