কানাডায় মার্কিন স্পিরিট বিক্রিতে ৬৬% ধস, সার্বিক বাজারেও বড় ধাক্কা

জামির হোসেন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কানাডার মদ শিল্পে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কানাডার মদ শিল্পে। স্পিরিটস কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্টিলড স্পিরিটস কাউন্সিলের যৌথ তথ্য অনুযায়ী, ৫ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র দুই মাসে আমদানি করা মার্কিন স্পিরিটের বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ৬৬.৩ শতাংশ। এক দশকের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।

বিষয়টির সূত্রপাত মার্চের শুরুতে। যুক্তরাষ্ট্র কানাডিয়ান ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে প্রতিশোধ হিসেবে কানাডা কয়েক বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বসায়। প্রাদেশিক সরকারগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয় আমেরিকান ব্র্যান্ডের হুইস্কি, বোর্বন, রাম ও অন্যান্য ডিস্টিলড স্পিরিট তাক থেকে সরিয়ে নিতে।

ফলাফল ছিল তাত্ক্ষণিক মার্চ মাসেই কানাডার মোট স্পিরিট বিক্রি আগের বছরের তুলনায় কমে যায় ২০.৬ শতাংশ। যদিও এপ্রিল মাসে সামান্য স্বস্তি ফেরে, তবু বিক্রি এখনও ৩.৩ শতাংশ নিচে থাকে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কানাডিয়ান স্পিরিটের বিক্রিও এ সময়ে ৩.৬ শতাংশ হ্রাস পায়, যা দেখায় যে বাজারের সামগ্রিক আস্থা নড়বড়ে হয়ে গেছে।

স্পিরিটস কানাডার প্রেসিডেন্ট ক্যাল ব্রিকার বলেন, “এই পরিস্থিতি উভয় দেশের উৎপাদক ও খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর। উন্মুক্ত ও পারস্পরিক বাণিজ্য সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ, বর্তমান সংকট তা স্পষ্ট করেছে। এই সম্পর্ক ভোক্তা, ব্যবসা এবং সরকারি রাজস্ব তিন পক্ষের জন্যই লাভজনক।”

প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে কানাডায় সার্বিক স্পিরিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ৫৫ লাখ ডলারে, যেখানে গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৪১ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের বেশি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাজার থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বিক্রি উবে গেছে।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই ধস দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে হসপিটালিটি সেক্টরে। বার, রেস্টুরেন্ট, হোটেল এবং বিভিন্ন ইভেন্ট ভেন্যুতে আমেরিকান স্পিরিটের চাহিদা ছিল উল্লেখযোগ্য। ঘাটতি পূরণে ইউরোপীয় ও এশীয় স্পিরিটের আমদানি বাড়তে পারে, যা স্থানীয় বাজারের সরবরাহ শৃঙ্খল ও মূল্যনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করবে।

বর্তমানে উভয় দেশই বাণিজ্য আলোচনায় অচলাবস্থায় রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, শুল্ক নীতি শিথিল না হলে কানাডার মদ শিল্পে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্টিলড স্পিরিট উৎপাদকদের জন্যও এটি একটি বড় বাজার হারানোর ঝুঁকি তৈরি করেছে।

সার্বিক চিত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে দ্রুত সমঝোতা না হলে এই উত্তেজনা শুধু মদ নয়, অন্যান্য ভোগ্যপণ্য ও সংশ্লিষ্ট শিল্পেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

Related Articles

Back to top button