বেসরকারি খাতে প্রায় ১৯% কর্মী অস্থায়ী বিদেশি শ্রমিক

মাহবুবুল আলম

কানাডার শ্রমবাজারে অস্থায়ী বিদেশি শ্রমিকের উপস্থিতি নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

কানাডার শ্রমবাজারে অস্থায়ী বিদেশি শ্রমিকের উপস্থিতি নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিং অনুযায়ী, বর্তমানে বেসরকারি খাতের মোট কর্মীর প্রায় ১৯ শতাংশের কিছু কম অস্থায়ী বাসিন্দা বা বিদেশি কর্মী। এই হার দেশের শ্রমবাজারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, যা অর্থনৈতিক স্থিতি ও আবাসন খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।

১ মে অনুষ্ঠিত ওই ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বর্তমানে কানাডায় অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ৩০ লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করছেন যা গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সাম্প্রতিক শ্রমশক্তি সমীক্ষা অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে মোট কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ। অর্থাৎ, প্রতি পাঁচজন কর্মীর মধ্যে একজনেরও বেশি এখন অস্থায়ী পারমিটধারী।

অস্থায়ী কর্মীদের পাশাপাশি কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে পড়াশোনা করা ৪ লাখ ৪৪ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী খণ্ডকালীন কাজের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ বৈধ ওয়ার্ক পারমিট পেয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার পরিবার সদস্য রয়েছেন, যাদের নিজস্ব কোনো কাজের পারমিট নেই।

সরকারি হিসেবে অন্তত ১ লাখ ২৯ হাজার অস্থায়ী বাসিন্দা তাদের ভিসার মেয়াদ অবৈধভাবে বাড়িয়ে নিয়েছেন বা অনুমোদিত সময়ের বাইরে কানাডায় অবস্থান করছেন, যা অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দক্ষতা ঘাটতি মেটাতে অস্থায়ী কর্মীরা বড় অবদান রাখলেও তারা আবাসন সংকটকে তীব্র করছে। ২০২৪ সালে কানাডার ভাড়া মূল্য গড়ে ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যার পেছনে আংশিকভাবে অস্থায়ী কর্মীদের ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদা দায়ী।

কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নির্মাণ এবং হসপিটালিটি সেক্টরে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, অস্থায়ী বিদেশি শ্রমিক ছাড়া উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রায় অসম্ভব। তবে সরকার মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ বাড়িয়ে বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি।

আইআরসিসি উপস্থাপিত “টেম্পোরারি রেসিডেন্ট রিডাকশন” পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, শ্রমবাজারের চাহিদা, আবাসন খাতের সক্ষমতা এবং স্থানীয় অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

অটোয়া ইঙ্গিত দিয়েছে যে নতুন কোটা ব্যবস্থা চালু করে অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা সীমিত করা হতে পারে। একই সঙ্গে প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে হাউজিং সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি এখনই নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, আগামী পাঁচ বছরে অস্থায়ী কর্মীদের সংখ্যা আরও ২০ শতাংশ বাড়তে পারে। এতে কানাডার জনসংখ্যার গঠনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, যা সামাজিক অবকাঠামো ও আবাসন বাজারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

অর্থনীতির প্রয়োজন ও সামাজিক স্থিতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাই এখন কানাডার নীতিনির্ধারকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Articles

Back to top button