বেবি নেস্ট প্রত্যাহারের আদেশ হেলথ কানাডার

মুসা বিশ্বাস

যেসব অভিভাবক বা ক্রেতা এসব পণ্য কিনেছেন, তারা চিক বেবির সঙ্গে ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

কানাডা সরকার শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবারও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি হেলথ কানাডা একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা জারি করেছে যেখানে তারা ‘চিক বেবি’ কোম্পানির ইলেভেন ব্র্যান্ডের আওতায় বিক্রি হওয়া বিচিক ও চিকিউর মডেলের বেবি নেস্ট প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে।

হেলথ কানাডার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বেবি নেস্টগুলিতে শিশু পড়ে যাওয়া, গলায় ফাঁস লাগা এবং আটকা পড়ার মতো গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। শিশুদের ঘুম বা বিশ্রামের সময় এ ধরনের পণ্য ব্যবহারে শ্বাসরোধ বা শারীরিক আঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে পণ্যগুলোকে শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যাহারকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে – বিচিক (Bechic) ও চিকিউর (Chicure) মডেলের বেবি নেস্ট, মাথার বালিশ এবং প্রিন্টেড কাপড়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের শিশুবালিশ, প্রতিটি পণ্যে “Eleven” ব্র্যান্ডের ট্যাগ সংযুক্ত রয়েছে।

বিশেষ করে চিকিউর মডেলকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে এটি ভাঁজ করে বহনযোগ্য ব্যাগে রাখা যায় যা দেখতে আকর্ষণীয় হলেও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যথেষ্ট দুর্বল প্রমাণিত হয়েছে।

চিক বেবি জানিয়েছে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত কানাডা জুড়ে মোট ৩,০০৭ ইউনিট প্রত্যাহারকৃত পণ্য বিক্রি হয়েছে। তবে কোম্পানির দাবি, এ পর্যন্ত এসব পণ্য ব্যবহারের কারণে কোনো দুর্ঘটনা বা আঘাতের ঘটনা রিপোর্ট হয়নি।

হেলথ কানাডা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিশুদের ঘুমের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হলো শক্ত, সমান ও সমতল কোনো সারফেস, যেখানে শিশু চিৎ হয়ে শোবে। তারা অভিভাবক ও কেয়ারগিভারদের অনুরোধ করেছেন, এই নেস্টগুলো অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করতে, যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। সঙ্গে আরও বলা হয়েছে, এগুলো যেন পুনরায় বিক্রি বা দান করা না হয়, সে কারণে ব্যবহৃত পণ্যগুলো নিরাপদভাবে ধ্বংস করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যেসব অভিভাবক বা ক্রেতা এসব পণ্য কিনেছেন, তারা চিক বেবির সঙ্গে ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। এছাড়া, যদি কেউ এই পণ্য ব্যবহারের কারণে কোনো স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা দেখে থাকেন, তবে তা জানাতে বলা হয়েছে ‘কনজ্যুমার প্রোডাক্ট ইনসিডেন্ট রিপোর্ট ফর্ম’ পূরণ করে জমা দেওয়ার মাধ্যমে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশুপণ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্তকরণ ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশুর ঘুমের সরঞ্জাম, হাই চেয়ার বা বেবি সুইং-এর মতো পণ্যে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কানাডা সরকার আবারও প্রমাণ করল যে তারা শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

Related Articles

Back to top button