
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই পদক্ষেপ কানাডার বাণিজ্য উন্নয়নকে থামাতে পারবে না। দেশটি নিজস্ব উদ্যোগে, দেশীয় বাজার ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরও মনোযোগী হবে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী কার্নি লেখেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে দর-কষাকষি চালিয়ে যাব। তবে যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে, সেখানে আমরা আরও শক্তভাবে কাজ করব কানাডাকে আরও আত্মনির্ভরশীল, শক্তিশালী ও উদ্ভাবনী অর্থনীতিতে পরিণত করব।”
তিনি আরও বলেন, “কানাডিয়ানরাই হবেন আমাদের সর্বোত্তম গ্রাহক। আমরা নিজেদের দেশে উচ্চ আয়ের কর্মসংস্থান তৈরি করব, নতুন শিল্প গড়ে তুলব এবং বিশ্বজুড়ে আমাদের বাণিজ্য অংশীদারিত্ব আরও বৈচিত্র্যময় করব। কোনো বিদেশি সরকার আমাদের কাছ থেকে যতটা কেড়ে নিতে পারে, আমরা নিজেদের প্রচেষ্টায় তার চেয়েও বেশি অর্জন করতে পারি।”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের এক নির্বাহী আদেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬৮টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে নতুন করে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর করেছেন। তবে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে বিদ্যমান CUSMA (Canada-United States-Mexico Agreement) চুক্তির আওতাধীন পণ্যগুলোকে আপাতত এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
চুক্তির মেয়াদ ১ আগস্ট শেষ হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। ফলে উত্তর আমেরিকার তিন দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আপাতত রক্ষা পেলেও, বৈশ্বিক বাণিজ্য শৃঙ্খলায় এই সিদ্ধান্ত নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আরবিসি ইকোনমিকসের এপ্রিলে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা কানাডার পণ্যের প্রায় ৯৪ শতাংশই CUSMA-সম্মত এবং এসব পণ্যের ওপর বর্তমানে শুল্ক শূন্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য এখনো গভীরভাবে পরস্পরনির্ভরশীল। ফলে নতুন শুল্কের প্রভাব সরাসরি কানাডার উপর না পড়লেও, এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
মার্কিন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী কার্নির মধ্যে একাধিকবার বাণিজ্য বিষয়ক আলোচনায় যোগাযোগ হয়। তবে বৃহস্পতিবার শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর তাদের মধ্যে কোনো নতুন যোগাযোগ হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কার্নির সাম্প্রতিক বিবৃতি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরাসরি প্রতিক্রিয়া না হয়ে বরং এক ধরনের কৌশলগত আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ। তিনি দেশীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক দর-কষাকষিতে কানাডার অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক আরোপ বিশ্ববাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তার বার্তা দিলেও, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তার দেশের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন “আমরা নিজেদের সামর্থ্যেই এগোবো।” তার এই ঘোষণা শুধু এক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং কানাডার ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতার দিকেও একটি স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি।



