টিটিসি স্ট্রিটকারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়

দিদার হোসেন

বাউয়ারের এই অভিযানের নাম তিনি দিয়েছেন “ম্যান ভার্সেস মেশিন”, যা তিনি নিয়মিতভাবে তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন।

টরন্টোর লেসভিলের এক তরুণ বাসিন্দা ম্যাক বাউয়ার সম্প্রতি শহরের আলোচনায় উঠে এসেছেন এক অনন্য চ্যালেঞ্জের কারণে। তার লক্ষ্য টরন্টোর বিখ্যাত স্ট্রিটকারগুলোর চেয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো। আশ্চর্যজনকভাবে, তিনি এখন পর্যন্ত সাতটি ভিন্ন রুটে দৌড়ে সাতবারই টরন্টো ট্রানজিট কমিশনের (TTC) স্ট্রিটকারকে হারিয়েছেন।

বাউয়ারের এই অভিযানের নাম তিনি দিয়েছেন “ম্যান ভার্সেস মেশিন”, যা তিনি নিয়মিতভাবে তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন। প্রতিটি দৌড়ের ভিডিও ও সময় তিনি রেকর্ড করে রাখেন, যাতে দেখা যায় স্ট্রিটকারের তুলনায় তিনি প্রায় ২৫ মিনিট আগে গন্তব্যে পৌঁছেছেন। মজার বিষয় হলো, এই সময়ের মধ্যেই তিনি একবার টিম হর্টন্সে থেমে কফি ও স্ন্যাকসও খেয়েছেন।

বাউয়ার জানান, প্রতিদিন স্ট্রিটকারে চেপে বাড়ি ফেরার সময়ই তার মাথায় এই অদ্ভুত ধারণাটি আসে। “একদিন মনে হলো, যদি আমি হেঁটে বা দৌড়ে যাই, তবে কি আমি স্ট্রিটকারের আগে পৌঁছাতে পারব?” এমন ভাবনা থেকেই শুরু হয় তার এই পরীক্ষা।

যদিও বিষয়টি প্রথমে একপ্রকার মজার চ্যালেঞ্জ হিসেবে শুরু হয়েছিল, এখন বাউয়ার এটিকে শহরের ট্রানজিট দক্ষতা নিয়ে সচেতনতা তৈরির একটি উদ্যোগে রূপ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, টরন্টোর গণপরিবহন ব্যবস্থা আরও কার্যকরী করতে হলে এর অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।

তার ভাষায়, “যদি আমরা চাই মানুষ গাড়ি না নিয়ে TTC বা স্ট্রিটকার ব্যবহার করুক, তবে আমাদের এটার অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ও দক্ষ করতে হবে। সেটা সম্ভব হবে তখনই, যখন স্ট্রিটকারগুলোর জন্য আলাদা, বাধাহীন লেন থাকবে।”

গ্লোবাল নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাউয়ার জানান, তার মতে স্ট্রিটকারের গতি কমে যায় মূলত নির্দিষ্ট লেনের অভাব, বাম মোড় নেওয়ার জটিলতা, এবং ডাউনটাউন এলাকার যানজটের কারণে।

তিনি বলেন, “স্ট্রিটকার আসলে দ্রুতগামী যান। কিন্তু যখন এটি ডাউনটাউনের কোর এলাকায় প্রবেশ করে, তখন অসংখ্য ট্রাফিক সিগন্যাল, মোড়, এবং যানজটে আটকে যায়। এখানেই সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয়।”

এক পর্যায়ে তিনি গ্লোবাল নিউজের সাংবাদিকদের নিয়ে চায়নাটাউন এলাকায় যানজটে আটকে থাকা একটি স্ট্রিটকারের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “দেখুন, আমি দৌড়ালে এর আগেই গন্তব্যে পৌঁছে যেতাম।”

বাউয়ারের এই অভিনব উদ্যোগ নিয়ে সিটি অব টরন্টো ও টিটিসি উভয়ের কাছেই সাংবাদিকরা মন্তব্য জানতে চাইলে কেউই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি।

এখন বাউয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য সেন্ট ক্লেয়ার লেন রুটে স্ট্রিটকারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। তিনি আশা করছেন, এভাবেই তিনি শহরের ট্রানজিট ব্যবস্থার ত্রুটি-বিচ্যুতি সামনে আনতে পারবেন এবং নাগরিকদের সচেতন করতে পারবেন যে, সময় এসেছে স্ট্রিটকারের জন্য আরও উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিত করার।

বাউয়ারের কথায়, “এটা কেবল দৌড় নয়, বরং শহরের গণপরিবহন কতটা ধীরগতির হয়ে পড়েছে, সেটা মানুষকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর চেষ্টা।”

টরন্টোর ব্যস্ত রাস্তায় যখন একের পর এক স্ট্রিটকার যানজটে আটকে থাকে, তখন বাউয়ারের এই উদ্যোগ যেন শহরের নাগরিকদের মনে একটাই প্রশ্ন জাগায় “মানুষ কি মেশিনের চেয়ে দ্রুত হতে পারে, নাকি মেশিনের গতি থামিয়ে দিয়েছে আমাদেরই অব্যবস্থাপনা?”

Related Articles

Back to top button