
বুধবার সকালে টরন্টোর লাইন ওয়ানে হঠাৎ করে সাবওয়ে সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে, যা প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এর ফলে হাজার হাজার যাত্রী কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে ব্যাপক ভোগান্তির সম্মুখীন হন। নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে মাত্র এক মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া মানদীপ লালি এই ঘটনার জন্য যাত্রীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন।
টিটিসি (Toronto Transit Commission)-এর তথ্য অনুযায়ী, লরেন্স ওয়েস্ট এবং সেন্ট জর্জ স্টেশনের মধ্যে বুধবার সকাল ৫টা ৪০ মিনিটের পর থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মূলত এগলিন্টন ওয়েস্ট স্টেশনের কাছে রাতভর চলা রক্ষণাবেক্ষণ ও সুইচ মেরামতের কাজ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় নেয়। সেই কাজ শেষ হতে দেরি হওয়ায় সকালে নিয়মিত সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।
সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে সাবওয়ে চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও, এরপরও লাইনজুড়ে বিলম্ব ও শিডিউল ব্যাঘাত দেখা দেয়। যাত্রীরা জানান, অনেকেই বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে বাধ্য হন। এই সময় টিটিসির পক্ষ থেকে শাটল বাস চালু করা হয়, কিন্তু তা যাত্রী চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট ছিল না।
এক বিবৃতিতে সিইও মানদীপ লালি বলেন, “এগলিন্টন ওয়েস্ট স্টেশনের কাছে ক্লিয়ারিং কাজে দেরি হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমাদের ক্রুরা রাতে সুইচ মেরামতের কাজ করছিলেন, যা পরিকল্পনার চেয়ে বেশি সময় নেয়। এর ফলে সেবায় ব্যাঘাত ঘটে এবং আমাদের যাত্রীরা যে অস্বস্তিতে পড়েছেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
লালি আরও বলেন, সেবা বিঘ্নের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে সকাল ৬টা থেকে ৭টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সময়কালে। তিনি জানান, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে তখনই সম্পূরক শাটল বাস সেবা মোতায়েন করা হয়।
নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি লালির প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ বলা যেতে পারে। তিনি বলেন, “আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের জন্য আমার টিমকে ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। টিটিসির সেবা উন্নত করা এবং যাত্রীদের আস্থা পুনরুদ্ধারই এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মানদীপ লালি এর আগে নিউ ইয়র্কের মেট্রোপলিটান ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (MTA)-এর অধীনে সাবওয়ে পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। সেখানে তিনি অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ৭ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে টিটিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব নেন, সাবেক প্রধান রিক লিয়ারির স্থলাভিষিক্ত হয়ে। রিক লিয়ারি গত গ্রীষ্মে পদত্যাগের পর টিটিসিতে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল।
যদিও সাবওয়ে সেবা এখন স্বাভাবিক হয়েছে, যাত্রীদের মধ্যে টিটিসির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন নতুন করে উঠেছে। সকালবেলার এই ব্যাঘাত অনেক কর্মজীবী ও শিক্ষার্থীর দিনটি শুরুতেই বিপাকে ফেলে দেয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, টরন্টোর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও পুরনো অবকাঠামো বিবেচনায় টিটিসিকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষতা ও পরিকল্পনার সঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে নতুন সিইওর কাছে যাত্রীরা এখন প্রত্যাশা করছেন সেবার গতি, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা যেন দ্রুত উন্নত হয়।
মানদীপ লালি অবশ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি যাতে পুনরায় না ঘটে, তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আনা হবে।
বুধবারের এই ঘটনাটি একদিকে টিটিসির জন্য ছিল বড় ধরণের লজিস্টিক ব্যর্থতা, অন্যদিকে নতুন প্রধানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এখন দেখার বিষয়, লালির নেতৃত্বে টিটিসি কত দ্রুত এই আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারে।



