ভ্যানকুভার প্রাইড প্যারেডে যোগ দিলেন কার্নি

জামির হোসেন

রোববার ভ্যানকুভারের রাস্তায় এক রঙিন ও প্রাণবন্ত আবহে অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক ভ্যানকুভার প্রাইড প্যারেড।

রোববার ভ্যানকুভারের রাস্তায় এক রঙিন ও প্রাণবন্ত আবহে অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক ভ্যানকুভার প্রাইড প্যারেড। কিন্তু এবারের আয়োজনে সবচেয়ে বড় চমক ছিল প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির হঠাৎ উপস্থিতি। সরকারি বৈঠকের ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যেও তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে কানাডার বহুত্ববাদ ও অন্তর্ভুক্তির প্রতি গভীর সমর্থনের বার্তা দেন।

দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী কার্নি সকালে ভ্যানকুভার ফ্রেজার বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট ও সিইও পিটার জোটা এবং ডিপি ওয়ার্ল্ড কানাডার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জোয়েল ওয়ার্নার-এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। আলোচনায় বন্দরের সম্প্রসারণ, সবুজ অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। এরপর তাঁর ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড এবি-র সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল, যেখানে প্রাদেশিক অর্থনীতি ও পরিবেশনীতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু ওই বৈঠক শেষে হঠাৎই প্রধানমন্ত্রীকে দেখা যায় ভ্যানকুভার প্রাইড প্যারেডের শোভাযাত্রায়।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্লেস স্টেডিয়াম থেকে শুরু হওয়া এই প্যারেডে তিনি প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে অংশগ্রহণ করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে এক অনন্য উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। হাতে ছোট রেইনবো পতাকা, মুখে হাসি প্রধানমন্ত্রী নিজেই নানা দিক থেকে আগত মানুষদের অভিনন্দন জানান, হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রাইড প্যারেডে অংশ নিয়ে মার্ক কার্নি বলেন, “প্রাইড প্যারেড কানাডার আত্মার প্রতিফলন। এটি আমাদের বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির সবচেয়ে ইতিবাচক উদযাপন।” তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত জনতা করতালিতে ফেটে পড়ে।

এক পর্যায়ে এক ড্র্যাগ কুইন তাঁর হাতে মাইক্রোফোন তুলে দেন, আর প্রধানমন্ত্রী মঞ্চ থেকে বলেন “এই প্যারেড কানাডার মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত উদযাপন। এমন ভালোবাসা ও স্বীকৃতির পরিবেশে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি গর্বিত।”

প্যারেডের অংশগ্রহণকারীরা উল্লাসধ্বনিতে তাঁকে স্বাগত জানান। অনেকে প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে ছবি তোলার সুযোগ নেন। অনুষ্ঠান শেষে ড্র্যাগ কুইন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী স্বচক্ষে এসে প্রাইডে অংশ নিয়েছেন, এটা আমাদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা কৃতজ্ঞ।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কার্নির এই পদক্ষেপ শুধু প্রতীকী নয়, বরং এটি বর্তমান কানাডার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে একাত্মতার প্রকাশ। বৈচিত্র্য, সমতা ও মানবিকতার বার্তা যে তাঁর নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, সেটিই তিনি মাঠে নেমে প্রমাণ করলেন।

ভ্যানকুভারের আকাশে রঙিন পতাকার ঢেউ আর মানুষের মুখে হাসি সব মিলিয়ে দিনটি শুধু প্রাইড উদযাপন নয়, বরং কানাডার বহুসাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল। আর সেই প্রতিচ্ছবিতে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির উপস্থিতি যুক্ত করল নতুন এক ইতিহাসের রঙ।

Related Articles

Back to top button