নোভা স্কশিয়ায় আরসিএমপির কার্যালয়ে বিক্ষোভ

কামরুল ইসলাম

বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) মিলব্রুক ফার্স্ট নেশন এলাকায় আরসিএমপির কার্যালয়ের সামনে শতাধিক বিক্ষোভকারী সমবেত হন।

নোভা স্কশিয়ায় রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) স্থানীয় কার্যালয়ের সামনে আদিবাসী মালিকানাধীন ক্যানাবিস ডিসপেনসারিগুলোর ওপর পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, পুলিশের এই পদক্ষেপ মি’কেমাক (Mi’kmaq) জনগোষ্ঠীর সার্বভৌমত্বের ওপর একের পর এক আক্রমণের সামিল।

বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) মিলব্রুক ফার্স্ট নেশন এলাকায় আরসিএমপির কার্যালয়ের সামনে শতাধিক বিক্ষোভকারী সমবেত হন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় আদিবাসী নারী, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, এবং পানি সংরক্ষক কর্মীরা।

বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক থমাস ডার্ফি জানান, এই আন্দোলন কেবল পুলিশের অভিযানের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং নিজেদের অধিকার ও সার্বভৌম অবস্থান প্রতিষ্ঠার একটি বৃহত্তর প্রয়াস। তিনি বলেন, “আমরা এখানে এসেছি আমাদের অধিকার রক্ষার জন্য। আমাদের কমিউনিটির বহু নারীকে আজ রাস্তায় নেমে আসতে দেখেছি এটা সত্যিই আবেগপূর্ণ মুহূর্ত। আমাদের মায়েরা, পানি সংরক্ষকরা, এবং বহু প্রখ্যাত কণ্ঠস্বর আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।”

মিলব্রুক ফার্স্ট নেশন কাউন্সিলের সদস্য ক্রিস গুগু সমবেত জনতার উদ্দেশে বলেন, “দোকানের মালিকের পাশে দাঁড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুধু একজন ব্যবসায়ী নন, মি’কেমাক সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র ট্রাকহাউজের অংশ।” তিনি আরও জানান, স্থানীয় কমিউনিটি আরসিএমপির কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল যেন তারা ক্যানাবিস আইন এই অঞ্চলে প্রয়োগ না করে। কারণ মি’কেমাক কমিউনিটি নিজেদের সার্বভৌম নীতিমালার ভিত্তিতে ক্যানাবিস বিক্রির স্বাধীন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।

আরসিএমপি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবার তারা আদালতের অনুমতি নিয়ে একটি “অবৈধ ক্যানাবিস স্টোরে” অভিযান চালায়। তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণ ক্যানাবিস এবং স্ট্যাম্পবিহীন তামাক উদ্ধার করা হয়। অভিযানে একজনকে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে আরসিএমপি জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা আইন অনুযায়ী কাজ করছি এবং যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তাধীন অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ বিবেচনাধীন রয়েছে।”

আরসিএমপি বলেছে, বিক্ষোভের সময় অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ তাদের কার্যালয়ের বাইরে সমবেত হয়েছিলেন এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল। তবে স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উপস্থিত জনতার সংখ্যা ১০০-এর বেশি ছিল এবং অধিকাংশই শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে মি’কেমাক ও অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায় বহুদিন ধরেই নিজেদের জমি, সম্পদ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সার্বভৌম অধিকার দাবি করে আসছে। ক্যানাবিস বিক্রির ক্ষেত্রেও তারা যুক্তি দিচ্ছে এটি তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক উদ্যোগ, যা ফেডারেল বা প্রাদেশিক আইনের আওতায় নয়, বরং ঐতিহ্যগত স্বশাসনের অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি আদিবাসী সার্বভৌমত্ব ও ফেডারেল আইনের মধ্যে চলমান উত্তেজনার আরেকটি উদাহরণ। বিশেষত, মি’কেমাক সম্প্রদায় বহু বছর ধরে মাছ ধরা, বনসম্পদ ব্যবহারের মতো ক্ষেত্রেও একই ধরনের দ্বন্দ্বের মুখে পড়েছে।

একজন স্থানীয় অধিকারকর্মী বলেন, “এটা শুধু ক্যানাবিসের বিষয় নয়। এটা আমাদের আত্মপরিচয়, ভূমির মালিকানা, এবং নিজের কমিউনিটিকে নিজেদের মতো পরিচালনার অধিকারের প্রশ্ন।”

নোভা স্কশিয়ার এই ঘটনাটি দেখিয়ে দিচ্ছে, কানাডায় আদিবাসী অধিকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সম্পর্ক এখনও গভীর অবিশ্বাস ও সংঘাতের মধ্যে রয়ে গেছে। একদিকে রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগের দায়, অন্যদিকে ঐতিহ্যগত সার্বভৌমত্বের দাবি এই দুইয়ের দ্বন্দ্বই মি’কেমাক জনগোষ্ঠীর লড়াইকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিক্ষোভের আয়োজকরা জানিয়েছেন, যদি আদিবাসী মালিকানাধীন ব্যবসার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকে, তবে তারা বৃহত্তর পর্যায়ে আরও প্রতিবাদ কর্মসূচি হাতে নেবেন।

Related Articles

Back to top button