সরকারি কর্মীদের সপ্তাহে পাঁচদিন অফিস করার পক্ষে ফোর্ড

জামির হোসেন

ফোর্ড বলেন, ফেডারেল সরকারেরও এটা অনুসরণ করা উচিত। অন্টারিওর অন্যান্য অঞ্চলকেই এই পদক্ষেপ অনুসরণের আহবান জানান

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, সরকারি কর্মীদের সপ্তাহে পাঁচদিনই অফিসে উপস্থিত থেকে কাজ করা উচিত। তাঁর মতে, সশরীরে অফিসে কাজ করলে যোগাযোগ, পরামর্শ এবং সহযোগিতার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে যা দূরবর্তী কাজের মাধ্যমে কখনোই পুরোপুরি সম্ভব নয়।

বুধবার ইঙ্গেলউডে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফোর্ড ফেডারেল সরকারের রিমোট ওয়ার্ক নীতির সমালোচনা করেন এবং বলেন, “অটোয়া যেভাবে তাদের কর্মীদের জানুয়ারি থেকে সপ্তাহে পাঁচদিন অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে, সেটি একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। আমি মনে করি ফেডারেল সরকার এবং অন্টারিওর প্রতিটি মিউনিসিপালিটিকেও একই নীতি অনুসরণ করা উচিত।”

ফোর্ডের মতে, সরাসরি মুখোমুখি যোগাযোগের মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রদান আরও কার্যকর হয়। কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়, সমস্যা সমাধান ও নতুন ধারণা বিনিময়ের সুযোগ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “আপনি যখন সহকর্মীর পাশে বসে কাজ করেন, তখন কাজের গতি ও মান দুটিই বৃদ্ধি পায়। রিমোট কাজ এই পারস্পরিক সংযোগকে দুর্বল করে দিচ্ছে।”

এ মাসের শুরুতে অন্টারিও সরকার ঘোষণা করে যে, জানুয়ারি থেকে হাজার হাজার প্রাদেশিক সরকারি কর্মীকে সপ্তাহে পাঁচদিনই অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ, মহামারির পর থেকে চালু থাকা ‘হাইব্রিড’ কাজের ধরন এখন ধীরে ধীরে শেষের পথে।

ফেডারেল সরকারের ক্ষেত্রেও বর্তমানে কর্মীদের সপ্তাহে তিনদিন অফিসে থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, আর নির্বাহীদের ক্ষেত্রে চারদিন। তবে ফোর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি যথেষ্ট নয় তিনি মনে করেন, সরকারি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বজায় রাখতে সম্পূর্ণ অফিস-ভিত্তিক কর্মপ্রণালীই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

শুধু সরকারি খাত নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কানাডার শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেশনগুলো যেমন আরবিসি (RBC), ব্যাংক অব মন্ট্রিয়ল (BMO), এবং রজার্স কমিউনিকেশনস ইতোমধ্যে তাদের কর্মীদের সপ্তাহে পাঁচদিন অফিসে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন একদিকে যেমন উৎপাদনশীলতা বাড়াবে, অন্যদিকে যাতায়াত ও কাজের সময়ের চাপ বাড়িয়ে কর্মীদের জীবনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

যদিও অনেক কর্মী এখনও দূরবর্তী কাজের পক্ষে মত দিচ্ছেন বিশেষ করে যাঁরা পারিবারিক দায়িত্ব বা দীর্ঘ যাতায়াতের কারণে বাড়ি থেকে কাজকে সুবিধাজনক মনে করেন তবুও ধীরে ধীরে সরকার ও কর্পোরেট মহলে “অফিসে ফেরা” প্রবণতা শক্তিশালী হচ্ছে।

প্রিমিয়ার ফোর্ডের মন্তব্য তাই শুধু প্রশাসনিক নির্দেশ নয়, বরং এক নতুন কর্মসংস্কৃতির ইঙ্গিত। মহামারির পরবর্তী সময়ে যখন অনেকেই “হাইব্রিড” কাজের পদ্ধতিকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন, তখন এই নীতি পরিবর্তন আবারও “অফিস-কেন্দ্রিক” কর্মজীবনে ফেরার পথ খুলে দিচ্ছে।

ডগ ফোর্ডের মতে, সরকারি কর্মীদের সশরীরে অফিসে উপস্থিত থাকা কেবল দায়িত্বের অংশ নয়, বরং কার্যকারিতা ও দলগত সংহতি বজায় রাখার মূল উপাদান। এখন দেখার বিষয়, ফেডারেল সরকার ও অন্যান্য প্রাদেশিক প্রশাসন তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দেয় কি না।

Related Articles

Back to top button