
গাজায় মানবিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রবাহের অবরুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রতি আবারও বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কানাডা। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও জোর দাবি জানিয়েছে দেশটি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চলমান ইসরায়েল–হামাস সংঘাতে রেকর্ড সংখ্যক ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
গত সপ্তাহে কানাডা একাধিক ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দিয়ে জানায়, গাজায় স্বাধীনভাবে গণমাধ্যমের কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। বিবৃতিতে আরও বলা হয় যেসব ফিলিস্তিনি সাংবাদিক গাজা ত্যাগ করতে ইচ্ছুক, তাদের নিরাপদে এলাকা ছাড়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
গাজায় প্রবেশে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রতি কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে এসেছে ইসরায়েল। শর্ত ছিল প্রবেশ করতে চাইলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে থাকতে হবে। ‘প্রেস স্বাধীনতার যুগে এমন আচরণ সাধারণত আর দেখা যায় না’ বলেছে আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। তাদের অভিযোগ, তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল।
সংগঠনটি জানায়, চলমান যুদ্ধের সময় সাংবাদিক মৃত্যুর সংখ্যা ইতিহাসের যেকোনো সংঘাতের তুলনায় বেশি। তাদের ভাষ্য সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় ইসরায়েল সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।
ইসরায়েল বলছে, তারা কেবল সেইসব গণমাধ্যমকর্মীকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যারা হামাসকে ‘সহায়তা’ করছিলেন। তবে এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে কানাডাসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ। আল জাজিরার প্রতিবেদক আনাস আল-শরিফকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করার যে যুক্তি ইসরায়েল দিয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে তারা।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতে, সাংবাদিকদের রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইন লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে।
‘কানাডিয়ান জার্নালিস্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’ নামের একটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ইতোমধ্যেই পার্লামেন্ট হিলে অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের জন্য সরকারের সমর্থন দাবি করেছে। তারা আরও বলেছে গাজার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রাণ বাঁচাতে ইচ্ছুক সাংবাদিকদের জন্য কানাডা যেন আশ্রয়ের পথ সুগম করে।
গাজায় গণমাধ্যমের অবাধ প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক সমাজ প্রকৃত পরিস্থিতির নির্ভরযোগ্য তথ্য পাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকরা শুধু তথ্যের বাহক নন, বরং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজরদারও তাই তাদের টার্গেট করা বা আটকে রাখা গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার জন্য গুরুতর সংকেত।
কানাডার এই অবস্থান তাই শুধু মানবিক উদ্যোগই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী তথ্যস্বাধীনতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও মূল্যায়িত হচ্ছে।



