বিশনয় গ্যাংকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করল কানাডা

লিয়াকত আলী

জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনান্দাসাংগ্রি সোমবার বলেন, এটা কানাডিয়ান নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করবে

ভারতভিত্তিক কুখ্যাত লরেন্স বিশনয় গ্যাংকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে কানাডার ফেডারেল সরকার। সোমবার দেশটির জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনান্দাসাংগ্রি এই ঘোষণা দেন। এর ফলে কানাডার নিরাপত্তা সংস্থা, গোয়েন্দা বিভাগ এবং পুলিশ বাহিনী গ্যাংটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে।

কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) গত বছর থেকেই গ্যাংটির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে আসছিল। তাদের দাবি বিশনয় গ্যাং কানাডায় সহিংসতা, ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং বিশেষ করে শিখ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়ে থাকে।

ফেডারেল সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশনয় গ্যাং কানাডায় হত্যা, গুলি, অগ্নিসংযোগ ও চাঁদাবাজিতে জড়িত। এর পাশাপাশি তারা নির্যাতন ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বিভিন্ন কমিউনিটিতে এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে মানুষ নিজেদের অসুরক্ষিত মনে করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারা সচেতনভাবে কমিউনিটির সনামধন্য ব্যবসায়ী, সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব এবং প্রভাবশালী সদস্যদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ও এনডিপি নেতা ডেভিড এবি গত জুনে প্রথম এই গ্যাংকে সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত করার দাবি জানান। পরবর্তীতে জুলাইয়ে আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েলে স্মিথ এবং আগস্টে ফেডারেল কনজারভেটিভ নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভর একই দাবি তুলে ধরেন। এই রাজনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির মূল্যায়নের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত কানাডা সরকার বিশনয় গ্যাংকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করল।

সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে কানাডার কর্তৃপক্ষ গ্যাংটির সব ধরনের সম্পদ জব্দ বা অবরুদ্ধ করতে পারবে। পাশাপাশি কোনো কানাডিয়ান নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান এই গ্যাং বা তাদের সহযোগীদের আর্থিক বা লজিস্টিক সহায়তা দিতে পারবে না।

এই সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করলে সেটি কানাডার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

গ্যাংটির নেতৃত্বে রয়েছেন ভারতীয় কুখ্যাত গ্যাং লিডার লরেন্স বিশনয়, যিনি বর্তমানে ভারতের একটি উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন কারাগারে বন্দি। অভিযোগ রয়েছে সেখান থেকেই তিনি সেলফোনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে নির্দেশ পাঠিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। ভারতে সংগঠিত একাধিক খুন, হামলা ও চাঁদাবাজি মামলার সঙ্গেও তার নাম জড়িয়ে আছে।

এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে কানাডার দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির অনেক সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তারা দাবি করে আসছিলেন ভারতীয় গ্যাংগুলো কানাডায় নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করে যুবসমাজ, ব্যবসায়ী এবং সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করছে।

সরকারের এই ঘোষণা তাদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বলছে এখন তারা গ্যাংটির বিরুদ্ধে আইনগতভাবে আরও শক্ত অবস্থান নিতে পারবে।

Related Articles

Back to top button