ভাড়াটিয়াদের অধিকার দুর্বল করার নিন্দায় এনডিপি

মাসুদ করিম

অন্টারিও প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড

অন্টারিও সরকারের নতুন প্রস্তাবিত অমনিবাস বিল ৬০ ভাড়াটিয়াদের অধিকারকে আরও দুর্বল করবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এনডিপি এমপিরা ও প্রদেশের ভাড়াটিয়া অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের সরকার বাড়িওয়ালাদের ক্ষমতা বাড়িয়ে ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

গত সপ্তাহে উপস্থাপিত এই বৃহৎ আইন প্যাকেজে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির নিয়মে একাধিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের ভাষ্য, এসব পরিবর্তন ট্রাইব্যুনালের শুনানি বিলম্ব হওয়া কমাবে। তবে ভাড়াটিয়া প্রতিনিধি ও বিরোধী দল বলছে, বাস্তবে এসব পরিবর্তন শুধুই ভাড়াটিয়াদের ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

ইয়র্ক–সাউথ ওয়েস্টন টেন্যান্টস ইউনিয়নের প্রতিনিধি চিয়ারা পাডোভানি বিলটিকে “ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা” বলে মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার কুইন’স পার্কে এনডিপির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই বিলের মাধ্যমে সরকার পরিষ্কারভাবে বাড়িওয়ালাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, “ডগ ফোর্ড ও তার প্রোগ্রেসিভ কনজার্ভেটিভ সরকার ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদকে আগের চেয়ে আরও সহজ করে দিচ্ছে। ভাড়ায় সামান্য দেরি হলেই উচ্ছেদের ভয় তাড়া করবে হাজারো পরিবারকে।”

বিলটির অন্যতম বিতর্কিত প্রস্তাব হলো ভাড়া পরিশোধে ব্যর্থ হলে উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়ার সময়সীমা ১৪ দিন থেকে কমিয়ে ৭ দিন করা। অর্থাৎ, ভাড়ায় দেরি হলে ভাড়াটিয়ার হাতে ঘর ছাড়ার আগে প্রস্তুতির জন্য যে সময় থাকে, তা এখন অর্ধেকে নেমে আসবে। ভাড়াটিয়া অধিকারকর্মীদের মতে, অনেক পরিবারই অল্প সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান করতে পারে, কিন্তু সময় কমে গেলে তারা সরাসরি উচ্ছেদের মুখোমুখি হয়ে পড়বে। এছাড়া, চূড়ান্ত শুনানির বিরুদ্ধে রিভিউ বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করার প্রস্তাব আছে।

ভাড়াটিয়াদের উদ্বেগ এতে ভুল সিদ্ধান্ত প্রতিরোধের সুযোগ কমে যাবে। প্রদেশ বলছে, এতে প্রক্রিয়া দ্রুত হবে, কিন্তু সমালোচকদের মতে, ন্যায়বিচার অপেক্ষাকৃত দুর্বল পক্ষের জন্য আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

বিলে আরও বলা হয়েছে, ভাড়াটিয়ারা শুনানিতে কোন কোন যুক্তি বা বিষয় তুলবেন, তা আগেভাগেই লিখিতভাবে জানাতে হবে। সরকারের দাবি, অপ্রস্তুত অবস্থায় আসা পক্ষের কারণে শুনানি স্থগিত হওয়ার ঘটনা কমাতেই এ বিধান।

কিন্তু ভাড়াটিয়া গ্রুপগুলোর বক্তব্য অনেক ভাড়াটিয়া আইনগত সহায়তা ছাড়াই নিজেরাই লড়াই করেন। আগে থেকে সব বিবরণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তাদের জন্য বাড়তি চাপ ও জটিলতা তৈরি করবে।

বিল ৬০-এর আরেকটি সমালোচিত পরিবর্তন হলো বাড়িওয়ালা যদি নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বাসা ফেরত নিতে চান, তাহলে আর ভাড়াটিয়াকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না।

বর্তমানে, ১২০ দিনের কম নোটিশ দিলে বাড়িওয়ালাকে এক মাসের ভাড়া সমতুল্য অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হয়। কর্মীদের আশঙ্কা, এই পরিবর্তনের ফলে “নিজ ব্যবহারের দাবি”কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বহু বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে তাড়িয়ে দিতে পারবেন।

বিল ৬০ নিয়ে চলমান বিতর্ক অন্টারিওর আবাসন সংকট ও ভাড়াটিয়া সুরক্ষার বড় প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। সরকার বলছে, আইনটি আমলাতন্ত্র কমিয়ে প্রক্রিয়া সহজ করবে। তবে বিরোধী দল ও অধিকারকর্মীদের মত, পরিবর্তনগুলো ভাড়াটিয়ার অধিকারকে খর্ব করে তাদের আরও অনিরাপদ করে তুলবে।

This article was written by Masud Karim as part of the LJI

Related Articles

Back to top button