বিশ্বকাপ সামনে রেখে ব্যাথার্স্ট স্ট্রিটে স্ট্রিটকার লেন স্থাপন

জুমু চৌধুরী

টরন্টো শহর ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর যাতায়াত আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে ব্যাথার্স্ট স্ট্রিটে অগ্রাধিকারমূলক নতুন স্ট্রিটকার লেন নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে।

টরন্টো শহর ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর যাতায়াত আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে ব্যাথার্স্ট স্ট্রিটে অগ্রাধিকারমূলক নতুন স্ট্রিটকার লেন নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বৃহত্তর ট্রানজিট সংস্কারের সূচনা হলো বলে জানিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ।

নতুন স্ট্রিটকার অগ্রাধিকার লেনটি ব্যাথার্স্ট স্টেশন থেকে লেক শোর বুলভার্ড ওয়েস্ট পর্যন্ত মোট ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত হবে। শহর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল লেনটিকে এগলিন্টন এভিনিউ পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা, তবে বর্তমান ধাপে সেই অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

সিটি অব টরন্টোর মতে, এই প্রকল্প TTC–র সেবার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং প্রতিদিন হাজারো যাত্রীর যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনবে। বিশেষ করে বিশ্বকাপ চলাকালে আন্তর্জাতিক পর্যটক ও স্থানীয়দের বাড়তি চাপ মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে প্রকল্পটি নিয়ে সবাই একমত নন। ব্যাথার্স্ট এলাকার অনেক বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যেমন – গাড়ির জন্য একটি লেন কমে যাওয়ায় যানজট বাড়বে, ব্যবসায়ীরা গ্রাহক হারাতে পারেন এবং স্থানীয় প্রবেশ ও পার্কিং সুবিধা সীমিত হয়ে পড়বে। একজন যাত্রী এনআরবি টিভিকে বলেন, “এটা খুবই খারাপ হচ্ছে। কারণ এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, সব সময়ই ব্যস্ত থাকে। একটি লেন বাদ গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পের অংশ হিসেবে পুরোনো লেন মার্কিং তুলে ফেলা, লাল রঙে নতুন স্ট্রিটকার অগ্রাধিকার লেন চিহ্নিত করা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল আধুনিকায়ন করা হবে। এবং এই কাজগুলো ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যা ৮টার পর থেকে সক্রিয় কাজের জোনগুলোতে কোনো গাড়ি পার্কিং বা থামিয়ে রাখার অনুমতি থাকবে না।

এ বছরের শুরুর দিকে টরন্টো সিটি কাউন্সিল ব্যাথার্স্ট ও ডাফেরিন র‌্যাপিডটু করিডোর নির্মাণের অনুমোদন দেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে শহরের ট্রানজিট নেটওয়ার্ককে প্রস্তুত করতে মোট ৮০ লাখ ডলার বিনিয়োগের অংশ হিসেবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শহরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ পুরো করিডোর চালু হওয়ার কথা। যদিও আগে ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৬ সালের বসন্তে প্রকল্পটি শেষ হবে।

বিশ্বকাপ চলাকালে টরন্টোতে ম্যাচ আয়োজন, পর্যটকের উপস্থিতি এবং শহরের ব্যস্ততার কারণে গণপরিবহনের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই স্ট্রিটকার অগ্রাধিকার লেনটি শুধু TTC–র সেবা উন্নত করবে না, বরং শহরের সামগ্রিক যানবাহন ব্যবস্থাকে আরও শৃঙ্খলিত করবে বলে মনে করছেন পরিকল্পনাবিদরা।

তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে ও পরে স্থানীয়দের উদ্বেগ কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা যায় সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

Related Articles

Back to top button