কুইন’স পার্কের হলগুলো বাড়তি সাজে

মাসুদ করিম

এ বছরের গোড়ার দিকে স্পিকার হিসেবে ডোনা কেলির নাম ঘোষণা করা হয়

টরন্টোর কুইন’স পার্কে এ বছর ছুটির মৌসুম শুরু হয়েছে এক নতুন মাত্রায়। সাধারণত যেভাবে সজ্জিত করা হয় তার চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয়, রঙিন ও নজরকাড়া সাজে সেজেছে অন্টারিও আইনসভার ঐতিহাসিক ভবন, যা ‘পিঙ্ক প্যালেস’ নামে পরিচিত। ভবনটির ভেতর-বাহিরকে এভাবে উজ্জ্বল করে তোলার উদ্যোগ এসেছে বর্তমান স্পিকার ডোনা কেলির কাছ থেকে যিনি চাইছেন আইনসভাকে আরও বেশি উন্মুক্ত, প্রবেশযোগ্য ও জনবান্ধব করে তুলতে।

এ বছর শুধুমাত্র আইনসভার ভিতরেই নয়, ভবনের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের সাজ। প্রধান সিঁড়ি ছাড়িয়ে প্লাস্টিক ও সত্যিকারের পয়েনসেটিয়াস ফুলের সারি, নিচতলার উপরে ঝুলছে বিশাল ঝাড়বাতি, লম্বা হলওয়েগুলোতে শোভা পাচ্ছে সারি সারি লাইট, চেম্বারের দরজার বাইরে স্থাপিত ক্রিসমাস ট্রি এবং ভবনের বাইরের দেওয়ালেও যুক্ত হয়েছে নতুন আলোকসজ্জা। পিঙ্ক প্যালেসকে এতোটা জাঁকজমকপূর্ণ করে তোলার নজির সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেই। কর্মচারী, দর্শনার্থী এবং পথচারীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক নতুন অভিজ্ঞতা।

এ বছরের শুরুতেই স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন ডোনা কেলি। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি স্পষ্ট করে জানান, জনগণের জন্য আইনসভাকে আরও উন্মুক্ত ও স্বস্তিদায়ক করা তার অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি স্মরণ করেন ডিসেম্বরের এক সন্ধ্যার কথা যখন তিনি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন আগেই অধিবেশন শেষে হলের দিকে হাঁটছিলেন। তখনই তার মনে হয়েছিল, “এখানে কাজ করতে পারাটা সত্যিই সৌভাগ্যের। এই অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত।”

কেলি বলেন, বছরের পর বছর ধরে ভবনের বাহ্যিক সৌন্দর্য ও রক্ষণাবেক্ষণে যথেষ্ট বিনিয়োগ হয়নি। বাহ্যিক দিকটি অনেক সময়ই নিষ্প্রভ দেখা যায়। তিনি চেয়েছেন ভবনটি যেন দর্শনার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়, আইনসভার ঐতিহাসিক মর্যাদা যেন প্রতিফলিত হয় এবং ছুটির মৌসুমে ভবনটির সৌন্দর্য যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

মঙ্গলবারের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রথমে লিবারেল পার্টির এক এমপিপি এই সজ্জার প্রশংসা করেন। এরপর ধীরে ধীরে সব দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে কুইন’স পার্কের ছুটির সাজসজ্জার প্রশংসা জানান। একটি রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত পরিবেশে এ ধরনের ঐক্যবদ্ধ প্রশংসা ছিল বিরল দৃশ্য। এটি শুধু একটি সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প নয়; বরং আইনসভার সাংস্কৃতিক উন্মুক্ততা, জনগণের প্রতি স্বাগত বার্তা এবং প্রাদেশিক ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা এমনটাই মনে করছেন অনেকে।

এই উদ্যোগ দেখাচ্ছে যে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও চাইলে উৎসবের মৌসুমে নাগরিকদের সাথে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে। স্পিকার কেলির সিদ্ধান্ত ভবনটির ঐতিহাসিক মূল্যকে নবজাগরিত করেছে এবং মানুষকে আইনসভাকে ‘নিজেদের জায়গা’ হিসেবে অনুভব করার সুযোগ দিয়েছে।

এ বছরের কুইন’স পার্ক শুধু আলোয় উদ্ভাসিত নয় বরং এক নতুন মনোভাবের প্রতিফলন, যেখানে উন্মুক্ততা, সৌন্দর্য এবং নাগরিক অংশগ্রহণ হাত ধরাধরি করে এগিয়ে চলেছে।

This article was written by Masud Karim as part of the LJI

Related Articles

Back to top button